কিভাবে একটি প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানি গঠন বা নিবন্ধন করবেন?

প্রত্যেক ব্যবসায়ীর স্বপ্ন থাকে যে তিনি একটি প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানি গঠন করবেন তার প্রতিষ্ঠানটি একদিন বড় একটি কোম্পানি হবে, তিনি ডিরেক্টর হবেন, শত-সহস্র শ্রমিককে তার কোম্পানি চাকরি দেবেন, তিনি দেশ ও সমাজের জন্য বড় ভূমিকা রাখবেন। অনেকেই ভেবে থাকেই এই কোম্পানি গঠন করা বেশ কঠিন একটা কাজ এবং এটি করলে বেশ ঝামেলা পোহাতে হয় কারণ অনেকেই এই কোম্পানি নিবন্ধন প্রক্রিয়া সম্পর্কে জানেন না বা অনেক সময় ভুল জানেন। আমরা আমাদের এই লেখায় সহজ ও বোধগম্য ভাবে কোম্পানির গঠন প্রক্রিয়া এ টু জেড উল্লেখ করবো। তাছাড়াও এই লেখায় আপনি এই লেখায় কোম্পানি নিবন্ধনের জন্য সকল প্রয়োজনীয় গাইড লাইন পাবেন। যা আপনাকে প্রয়োজনীয় টার্মস ও বিষয়গুলো বুঝতে সাহায্য করবে। আর যে কোন সাহায্যের জন্য আমরা তো আছি-ই।

 

কোম্পানি গঠনের আগে যেসব জানা ভালো

 

প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানি কি?

কিছু ব্যক্তি যখন ব্যক্তিগত ভাবে বা প্রাইভেটলি কোন কোম্পানি গঠন করেন তখন তাকে বলা হয় প্রাইভেট কোম্পানি। উল্লেখ্য যে চাইলেই যে কেই নিজের ইচ্ছামত এই কোম্পানির অংশীদার হতে পারে না যদি না মূল অংশীদাররা নতুনদের যুক্ত করতে অনুমোদন দেয়।

আর লিমিটেড কথাটি এসেছে শেয়ার লিমিট ও শেয়ার হোল্ডার / অংশীদার লিমিট থেকে, একটি লিমিটেড কোম্পানিতে কত টাকা বিনিয়োগ করা যাবে তা আগেই অথরাইজড ক্যাপিটালে মাধ্যমে নির্ধারণ করা হয় বা লিমিট করা হয়। সেই লিমিটের বাইরে কোন লিমিটেড কোম্পানি শেয়ার বিক্রি করতে পারবে না।

আবার লিমিটেড কোম্পানিতে যারা অংশীদার থাকেন তাদের লাভ ও দায় তাদের শেয়ারের অনুপাতে তাদের উপর বর্তায় তাই এটাকে বলে লিমিটেড লায়াবেলিটি, এখানেও একটা লিমিট আছে। তাছাড়া একটি প্রাইভেট বা লিমিটেড কোম্পানিতে ২-৫০ জন পর্যন্ত শেয়ার হোল্ডার বা অংশীদার রাখা যায় যেটাও লিমিটেড।

প্রাক  পরিকল্পনা

আপনার কাছে অল্প কিছু টাকা থাকলেই আপনি একটি ফার্মের সাহায্য নিয়ে একটি কোম্পানির নিবন্ধন করতে পারেন তবে সেটা করার আগে অবশ্যই একজন ব্যবসায়ী বা উদ্যোক্তার কিছু প্রাক পরিকল্পনা করতে হবে এবং তার ভবিষ্যৎ লক্ষ স্থির করতে হবে। একটি কোম্পানি গঠন করার আগে নিচের বিষয়গুলো আপনার বা আপনার (কোম্পানির) অংশীদারদের কাছে পরিষ্কার হওয়া বঞ্চনীয় ।

  • আপনি / আপনার কি বর্তমানে কোন ব্যবসা করছেন? করলে বর্তমানে কি ব্যবসা করছেন? ভবিষ্যতে কি ব্যবসা করতে চাচ্ছেন?
  • আপনি ১০ বছর পর নিজের কোম্পানিকে কোথায় দেখতে চাচ্ছেন?
  • বর্তমানে কত টাকা বিনিয়োগ করতে চাচ্ছেন?
  • ভবিষ্যতে মোট কত টাকা বিনিয়োগ করতে চাচ্ছেন?

আপনি যদি ইতোমধ্যেই চিন্তায় পরে যান বা ভাবতে থাকে যে এতকিছু কি দরকার, তাহলে বলব চিন্তার কোন কারণ নেই। আপনার যদি বিষয়গুলো নিয়ে কনফিউশন লাগে সরাসরি আমাদের কাছে চলে আসুন আপনার সহযোগিতার জন্য আমারা সর্বদা প্রস্তুত। আর কেন বিষয়গুলো আগেই ভেবে রাখা ভাল সেটা এই লেখাটি সম্পূর্ণ ভাবে পড়লেই আইডিয়া পেয়ে যাবেন।

 

কোম্পানির কিছু টার্মস (শব্দ) ও অর্থ

কোম্পানি গঠন করতে বা কোম্পানির নিয়ে কাজ করতে আপনাকে কিছু টার্মস বুঝতে হবে, আমরা জানি যে এই টার্মসগুলো প্রায় সবাই জানেন তবুও সহজ ভাষায় টার্মস গুলো একবার জেনে নেওয়া ভাল।

 

  • অংশীদার / শেয়ার হোল্ডার: যারা একটি কোম্পানিতে অংশীদার হবেন, অর্থাৎ টাকা দিয়ে কোম্পানির মালিক হবেন তারা হচ্ছেন অংশীদার বা শেয়ার হোল্ডার। এই অংশীদাররা তাদের অংশের অনুপাতে লাভ [পক্ষান্তরে ক্ষতি] নিয়ে থাকবেন। প্রাইভেট কোম্পানিতে এই অংশীদারদের সংখ্যা ১-৫০ জন পর্যন্ত হতে পারে।
  • ডিরেক্টর : সাধারণত অংশীদারদের একটা ক্ষুদ্র অংশ, ২-৫ জন ডিরেক্টর হিসাবে কাজ করেন। এরা বার্ষিক সাধারণ সভাতে উপস্থিত থাকেন, কোম্পানির হয়ে কোম্পানির বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেন।
  • বোর্ড অব ডিরেক্টরস : কয়েকজন ডিরেক্টর মিলে, সাধারণত ৩-৫ জন একটি বোর্ড অব ডিরেক্টরস তৈরি করে যারা কোম্পানি পরিচালনা করেন।
  • ম্যানেজিং ডিরেক্টর : সাধারণ অংশীদার বা মালিকদের মধ্য থেকে একজন [সাধারণত যার শেয়ার বেশি থাকে তিনি] ম্যানেজিং ডিরেক্টর হয়ে থাকেন। সাধারণত ম্যানেজিং ডিরেক্টর একটা কোম্পানির সকল সিদ্ধান্ত নেন। একজন ম্যানেজিং ডিরেক্টরের কোম্পানি যে কোন বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়ার সকল ক্ষমতা থাকে।
  • চেয়ারম্যান: অংশীদারদের মধ্য থেকে একজন চেয়ারম্যান হন। চেয়ারম্যান মূলত কোম্পানির মিটিংগুলোতে সভাপতিত্ব করেন ও প্রয়োজনে মিটিঙের সিদ্ধান্তে ভোট প্রদান করেন।
  • পেইড আপ ক্যাপিটাল: কোন কোম্পানি যত টাকা দিয়ে শুরু হবে সেটা হচ্ছে সেই কোম্পানির পেইড আপ ক্যাপিটাল।
  •  অথরাইর্জড ক্যাপিটাল: কোন কোম্পানি কত টাকা ভবিষ্যতে বিনিয়োগ করতে চায় বা নিতে চায় সেটা হচ্ছে অথরাইজড ক্যাপিটাল।
  • মেমরেন্ডাম অব এসোসিয়েশন: এটি একটি দলিল, এই দলিলে একটি কোম্পানি কি কাজ করবে তা উল্লেখ থাকে।
  • আর্টিকেল অব এসোসিয়েশন : এটি একটি দলিল, এই দলিলে একটি কোম্পানি কিভাবে কাজ করবে তা উল্লেখ থাকে।

 

এখানে প্রতিটি বিষয় অতি-সহজ ভাষায় লেখা হয়েছে, যদিও এখানকার প্রতিটি টপিক একটি করে নতুন আর্টিকেল দাবি করতে পারে, তবে সাধারণ পাঠকদের জন্য এই বিষয় গুলো বুঝলেই আপাতত যথেষ্ট হবে।  আপনি যদি এই বিষয়গুলো নাও বোঝেন তাতেও সমস্যা নেই শুধু একটা আইডিয়া নিলেই হবে।

ভিডিও: কিভাবে একটি প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানির নিবন্ধন করবেন

 

কি কি কাগজপত্র ও তথ্য লাগবে

একটি কোম্পানি গঠন করতে প্রত্যেক জন অংশীদারের নিচের কাগজপত্র ও তথ্যগুলো লাগবে।

  • ভোটার আইডি বা পাসপোর্ট
  • ট্যাক্স আইডি নম্বর / টিন
  • স্থায়ী ও বর্তমান ঠিকানা
  • পাসপোর্ট সাইজের রঙ্গিন ছবি
  • পিতার নাম
  • মাতার নাম
  • প্রফেশন
  • ফোন নং
  • ই-মেইল এড্রেস (যদি থাকে)
  • এছাড়াও প্রত্যেকের ব্যাংক একাউন্ট ও চেক বই থাকতে হবে (যদিও এই তথ্য প্রাথমিক ভাবে প্রয়োজন নেই)

প্রত্যেক অংশীদারের এই তথ্য ছাড়াও কোম্পানির জন্য একটি ঠিকানা প্রয়োজন হবে।

 

খরচ

খরচকে আমরা দুই ভাগে ভাগ করতে পারি

সরকারি খরচ

 

সরকারি খরচটা নির্ভর করে যে আপনার অথরাইজড ক্যাপিটাল কত করতে চান তার উপরে। নিচের টেবিল থেকে সংক্ষেপে দেখে নিতে পারেন যে কত টাকা অথরাইজড ক্যাপিটাল হলে কত টাকা সরকারি ফি হবে।

 

Private / Limited company (RJSC) registration fee list 2021

Based on authorised capital

কনসালটেন্সি, ডকুমেন্টেশন ও প্রসেসিং ফি

সরকারী খরচ ছাড়াও পুরো বিষয়টাতে আপনাকে বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নিতে, আপনার ডকুমেন্টস তৈরি করতে ও পুরো প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করতে আপনার একজন কনসাল্টেন্ট অথবা একজন আইনজীবীর প্রয়োজন হবে। তাছাড়াও আরও অন্যান্য খরচ হতে পারে যা একা একা নতুন করো পক্ষে করতে গেলে বিভ্রান্তি ও ভোগান্তির স্বীকার হওয়া সম্ভাবনা থাকে।

 

পেইড-আপ ক্যাপিটাল, কোম্পানির ধরন, শেয়ার হোল্ডারদের সংখ্যা, কোম্পানি নিবন্ধনের আগে ও পরের কাজের হিসাব করে। সাধারণত বিভিন্ন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান ১০ হাজার থেকে শুরু কলে ১ লক্ষ টাকা পর্যন্ত নিয়ে থাকে। এটা কোন ফার্মের অভিজ্ঞতা, কারা কাজ করছেন ইত্যাদির উপর নির্ভর করে। তবে এই কাজ কোন প্রতিষ্ঠিত প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে করানোই ভাল। যাতে করে ভবিষ্যতে আপনি তাদের কাছ থেকে সাহায্য নিতে পারেন।

 

ল হেল্প বিডি ও বল এন্ড এসোসিয়েটস সুনামের সাথে বহুবছর ধরে কোম্পানির নিবন্ধন করে আসছে। আপনি যে কোন সময় কোম্পানির যে কোন বিষয় জানতে সরাসরি আমাদের চেম্বারে চলে আসতে পারেন। আমরা আপনাকে সঠিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করে, আপনার কাঙ্ক্ষিত মূল্যে আপনাকে সেবা দিতে বদ্ধ পরিকর।

 

উপরের বিষয়গুলোর একটি আইডিয়া নেয়ার পর আপনি যদি সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন যে আপনি একটি কোম্পানি করতে যাচ্ছেন তবে আপনাকে অভিনন্দন। আর যদি আপনি এখনো কনফিউশনে থাকেন তবে আমাদের চেম্বারে আপনার দাওয়াত রইল। আমরা আপনার সমস্যা ও চিন্তা শুনে সহজ সমাধান দেওয়ার চেষ্টা করব। সে যাই হোক, ধরে নেই আপনি একটি প্রাইভেট কোম্পানি প্রতিষ্ঠা করতে চাচ্ছেন। চলুন তাহলে আমরা নিবন্ধন প্রক্রিয়াটি দেখে নেই।

কোম্পানির নিবন্ধন প্রক্রিয়া

বাংলাদেশ সরকারের বাণিজ্য মন্ত্রনালয়ের অধীনস্থ Registrar of Joint Stock Companies And Firms (RJSC) বা যৌথ মূলধন কোম্পানি ও ফার্মসমূহের পরিদপ্তর যে কোন কোম্পানির নিবন্ধন দিয়ে থাকেন। কোন কোম্পানির বৈধ কাজ করার জন্য এই পরিদপ্তরের অধীনে কোম্পানি রেজিস্ট্রেশন বা নিবন্ধন করা বাধ্যতামূলক।

 

রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়াটি নিম্নরূপ।

 

নামের ছাড়পত্র গ্রহন

কোম্পানি নিবন্ধনের প্রথম ধাপটি হচ্ছে নামের ছাড়পত্র নেওয়া কিন্তু নামের ছাড়পত্র নেয়ার আগে আমাদের কিছু কাজ করতে হবে।

 

ভিডিও; কিভাবে কোম্পানির জন্য নামের ছাড়পত্রের জন্য আবেদন করবেন

 

নাম খুঁজুন / সার্চ করুন।

  • প্রথমেই আমাদের আরজেএসসির ওয়েবসাইটের এই লিংকটিতে গিয়ে আপনার কাঙ্ক্ষিত নামটি খালি আছে কিনা তা সার্চ করে দেখতে হবে। কারণ একই নামে বা কাছাকাছি সাদৃশ্য নামে আরজেএসসি নিবন্ধন প্রদান করবে না।
  • তাছাড়াও অতিরিক্ত সতর্কতার জন্য আপনাকে ব্যক্তিগত ভাবে খুঁজে দেখতে হবে যে আপনি যেই নাম চাচ্ছেন সেই নামে কোন প্রচলিত ব্যান্ড বা প্রতিষ্ঠান আছে কিনা অথবা কোন ট্রেডমার্ক ইত্যাদি আছে কিনা।
  • যদি দেখেন যে কাঙ্ক্ষিত নামটি খালি আছে এবং কোন স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠান বা ব্যান্ড এই নামে নেই তবে নামের ছাড় পত্র নেয়ার জন্য আবেদন করুন।

 

অ্যাকাউন্ট তৈরি করুন

  • এই লিংকে গিয়ে Create new user (General) এ ক্লিক করুন এবং সেখানে দেওয়া নির্দেশনা অনুসরণ করে ফর্মটি পূরণ করুন। [আরও বিস্তারিত আমাদের নিচের ভিডিওটিতে দেখুন]

নামের ছাড় পত্রের জন্য আবেদন করুন।

  • নিবন্ধন সম্পন্ন হলে আপনি কিছুক্ষণের মধ্যে একটি ইমেইল পাবেন এবং সেখানে আপনি কিভাবে আপনার ইমেইল ভেরিফাই করে লগইন করবে সেই নির্দেশনা দেওয়া থাকবে।
  • ইমেইল ভেরিফাই করার পর আপনি সঠিক ভাবে  এই লিংকে গিয়ে Apply for name clearance এ ক্লিক করবেন ও সেখানে লগইন করবেন।
  • লগইন করার পর আপনি সেখানে একটি আবেদন পত্র দেখতে পাবেন যা যথাযথ ভাবে পূরণ করবেন। যেমন আপনি কোন অফিসে আবেদন করছেন, কিসের জন্য আবেদন করছেন, কোন নামের জন্য আবেদন করছেন, সর্বশেষে কি হিসেবে আবেদন করছেন।
  • আবেদন করার সময় নিচের বিষয়গুলোতে লক্ষ রাখবেন।

ধাপে ধাপে কোম্পানির নিবন্ধন করুন

নামের ছাড়পত্রের সাধারণ শর্তাবলী:

  • ১. একই নাম হতে পারবে না, অর্থাৎ উচ্চারণ ও লেখার ক্ষেত্রে শুনতে ও দেখতে একই রকম মনে হয় এমন নাম হবে না।
  • ২. আন্তর্জাতিক কোন কোম্পানি, প্রতিষ্ঠান বা সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংস্থার নামের অনুরূপ কোন নাম হবে না।
  • ৩. দেশে দীর্ঘদিন যাবৎ চালু আছে এমন কোন ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান, সামাজিক, সাংস্কৃতিক, বিনোদন বা ক্রীড়া সংগঠনের নামের অনুরূপ কোন নাম হবে না।
  • ৪. সরকারের অন্য কোন সংস্থায় নিবন্ধিত কোন প্রতিষ্ঠানের নামের অনুরূপ কোন নাম হবে না।  
  • ৫. জাতীয় পর্যায়ে বিখ্যাত বা খ্যাতি সম্পন্ন ব্যক্তির নাম সহ কোন নামের ক্ষেত্রে বিশিষ্ট ব্যক্তি পরিবারের সদস্যদের অনুমতি এবং সরকারের অনুমোদন আবশ্যক হবে। |
  • ৬. মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক কোন নামের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের অনুমতি আবশ্যক হবে।
  • ৭. সরকারি কোন কর্মসূচি বা সংস্থার নামের অনুরূপ কোন নাম হবে না।
  • ৮. বিদ্যমান রাজনৈতিক দলের নামের অনুরূপ বা রাজনৈতিক কোন স্লোগান বা কর্মকুঁচির নামের অনুরূপ কোন নাম হবে না।
  • ৯. অশ্লীল, গালি বা ব্যঙ্গাত্মক শব্দ বিশিষ্ট কোন নাম হবে না।
  • ১০. জাতি, ধর্ম অথবা সামাজিক সংঘাত সৃষ্টি করতে পারে এমন কোন নাম হবে না।
  • ১১. পূর্ব হতে প্রতিষ্ঠিত (অন্ততপক্ষে ১০ বছরের পুরাতন) সামাজিক প্রতিষ্ঠান তার মূল নামে নিবন্ধন করতে চাইলে সাংগঠনিক কমিটির রেজুলেশন নামের ছাড়পত্রের জন্য ব্যক্তিগতভাবে হাজির হয়ে আবেদন করবেন।
  • ১২. সামাজিক, সাংস্কৃতিক বা ক্রীড়া সংগঠনকে কোম্পানি হিসাবে নিবন্ধনের ছাড়পত্রের জন্য মন্ত্রণালয়ের পূর্বানুমতি আবশ্যক হবে।
  • ১৩, নামের ছাড়পত্রের বর্ণিত শর্তাবলীর কোন একটি ভঙ্গ হলে আরজেএসসি কর্তৃপক্ষ গৃহীত নাম পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত দিতে পারবে এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নাম পরিবর্তন না করা হলে নিবন্ধন নাম্বার দিয়ে আপত্তিকৃত নামটি প্রতিস্থাপন করা হবে অর্থাৎ প্রতিষ্ঠানটি তার নিবন্ধন নাম্বার দিয়ে পরিচিত হবে।
  • ১৪. শুধুমাত্র নামের ছাড়পত্র নিবন্ধনের জন্য চূড়ান্ত বলে বিবেচিত হবে না।

 

উপরের শর্তগুলো মেনে নামের আবেদন করার পর নেক্সট এ ক্লিক করলে আপনার কাছে একটা Submission Details information চলে আসবে। সেটা সংক্ষিপ্ত ভাবে দেখে আপনি Continue তে ক্লিক করবেন। তারপর আপনাকে একটা Acknowledgement পেইজ দেখাবে যেটা আপনার সেভ করে রাখতে হবে। তারপর আপনি কোন ব্যাংকে টাকা প্রদান করতে চান তা সিলেক্ট করলে আপনাকে সেই ব্যাংকের একটা রশিদ প্রদান করবে।

 

রিসিটি পাবার পরে আপনাকে ব্যাংকে নামের ছাড়পত্রের জন্য টাকা ২৩০ টাকা জমা দিতে হবে।

 

টাকা জমা দেওয়ার সাধারণত ২-৩ কর্ম দিবসের মধ্যে আপনি নামের ছাড়পত্র পেয়ে যাবেন। এই লিংকে গিয়ে আপনি Submission Status এ ক্লিক করে Acknowledgement পেইজের নাম্বারটি প্রদান করে আপনার নামের ছাড়পত্র হয়েছে কিনা তা চেক করতে পারবেন।

 

নিবন্ধনের জন্য আবেদন 

 

নামের ছাড়পত্র পেলে আপনাকে নিবন্ধনের জন্য আবেদন করতে হবে। এই প্রক্রিয়াটি একটু জটিল ও অনেক কিছু বোঝার ব্যাপার আছে তাই অভিজ্ঞ কারো সাহায্য নিলে কাজ সহজ হবে তবে যে যাই হোক এখানে সংক্ষিপ্ত ভাবে একটা ধারনা দেওয়ার চেষ্টা করা হোল।

 

  • নামের ছাড়পত্র পবার পর এই লিংকে গিয়ে Apply for Registration এ ক্লিক করতে হবে। তারপর লগইন করে Entity type private company সিলেক্ট করতে হবে।
  • এরপর আপনার Submission no এবং নামের ছাড়পত্রে সাথে পাওয়া  NC Letter No. দিয়ে আবেদন প্রক্রিয়া শুরু করতে হবে। এই আবেদন করতে প্রয়োজন হবে;
    • মেমরেন্ডাম অব এসোসিয়েশন : এই ডকুমেন্টে একটা কোম্পানি কি কি ব্যবসা করবে, কিভাবে করবে, কোথায় করবে তা লেখা থাকবে। কোন কোম্পানি এই ডকুমেন্টের বাইরে কোন ব্যবসা করতে পারবে না বা চুক্তি করতে পারবে না। তাই কোম্পানির বর্তমান ও ভবিষ্যতের কথা ভেবে এই দলিলটি তৈরি করতে হয়।
    • আর্টিকেল অব এসোসিয়েশন: এই দলিলে মূলত কোম্পানিটি কিভাবে পরিচালিত হবে, যেমন, কে ডিরেক্টর হবেন, কে কোন দায়িত্ব পাবেন, কার ক্ষমতা কেমন হবে, শেয়ার কেমন হবে, ডিভিডেন্ড কেমন হবে ইত্যাদি উল্লেখ থাকে। এই দলিলটিও খুব গুরুত্বপূর্ণ।
    • ফর্ম IX: এটি একটি ফর্ম যেখানে কোন অংশীদারের কত শেয়ার থাকবে ও তিনি কি দায়িত্বে থাকবেন তা বলা থাকে।

 

আবেদন প্রক্রিয়া শুরু করে ধাপে ধাপে ওয়েব সাইটের নির্দেশনা মতে এইসব দলিলে তথ্যগুলো আপলোড দিতে হবে। এবং দলিলগুলো সাইন করে, ছবি সংযুক্ত করে স্ক্যান কপি আপলোড করতে হবে।

 

নামের ছাড়পত্র পবার ৩০ দিনের মধ্যে আপনাকে নিবন্ধনের জন্য আবেদন করতে হবে। ৩০ দিনের পর আবেদন করতে চাইলে আবার নতুন করে নামের ছাড়পত্র নিতে হবে।

 

রেজিস্ট্রেশনের আবেদন সম্পন্ন হবার পর

 

রেজিস্ট্রেশনের আবেদন সম্পন্ন হবার পর, এক মাসের মধ্যে রেজিস্ট্রেশনের সরকারি ফি জমা দিতে হবে।

 

আপনি যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করলে এবং যথা সময়ে টাকা জমা দিলে সাধারণত টাকা জমা দেওয়ার ৭ দিনের মধ্যেই আপনার কোম্পানি নিবন্ধিত হয়ে যাবে।

 

রেজিস্ট্রেশন হলে যেসব ডকুমেন্ট পাবেন

 

আপনার কোম্পানিটি নিবন্ধিত হয়ে গেলে আপনি একে একে তিনটি দলিল পাবেন। দলিল তিনটি হচ্ছে।

  1. Certificate of IncorporationCertificate of Incorporation
  2. Certified copy of Article of Association (AOA) and Memorandum of Association (MOA)
  3. Form XII

 

নিবন্ধনের পর

 

একটি কোম্পানি নিবন্ধনের পর আপনাকে অবশ্যই কিছু কাজ সতর্কতার সহিত করতে হবে।

 

নিবন্ধনের পর  আপনি যেসব ডকুমেন্ট পেলেন সেখানে সব তথ্য সঠিক আছে কিনা চেক করবেন। অনেক সময় অফিস থেকে কারণে বিনা কারণে কিছু ভুল করে থাকে।

  • ভুল থাকলে তা ২১ দিনের মধ্যে সংশোধনের জন্য আবেদন দেয়া যায়।

যদি ভুলের কোন বিষয় না থাকে আপনি কোম্পানি থেকে প্রাপ্ত কাগজপত্র নিয়ে দ্রুততার সাথে কোম্পানির একটি ব্যাংক একাউন্ট খুলে ফেলবেন। তারপর অংশীদারেরা তাদের শেয়ারে উল্লেখিত টাকা বা তাদের পেইড আপ ক্যাপিটাল তাদের ব্যাংক একাউন্ট থেকে কোম্পানির ক্রস চেকের মাধ্যমে কোম্পানির ব্যাংক একাউন্টে প্রেরণ করবেন। এই কাজটি অবশ্যই তিন মাসের মধ্যে করতে হবে। উল্লেখ্য যে, এই টাকা জমা হওয়ার পর যে কোন সময় কোম্পানির যে কোন কাজে তোলা যাবে এবং ব্যবহার করা যাবে। এই টাকা কোম্পানির ইনভেস্ট হিসাবে বিবেচিত হবে।

 

এরই মাধ্যমে আপনি সহজে ও সুন্দর ভাবে একটি কোম্পানি নিবন্ধনের মাধ্যমে গঠন করতে পারেন এবং দেশ ও দশকে সামনের দিয়ে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারেন। আপনার এই অগ্রযাত্রায় আমাদের সঙ্গী করলে আমরা কৃতজ্ঞ হব। কোম্পানি বিষয়ক যে কোন প্রয়োজনে আমাদের সাথে সরাসরি যোগাযোগ করুন।

 

সরাসরি চলে আসতে পারেন এই ঠিকানায়; Baul & Associates, House # 4/2 (1st Floor) Block# C, Lalmatia, Dhaka – 1207 আমাদের ই-মেইল করুন: lawhelpbd@gmail.com এ বা প্রয়োজনে ফোন করুন: ০১৭১১৩৮৬১৪ নম্বরে। ধন্যবাদ।

একটি কোম্পানি গঠন করার পর আপনার প্রাথমিক কাজ হবে একটি ট্রেড লাইসেন্স তৈরি করে ফেলা, ট্রেড লাইসেন্স সম্পর্কে সবিস্তারে জনতে আমাদের এই লেখাটি দেখুন: ট্রেড লাইসেন্স কি, কেন ও কিভাবে করবেন?

বন্ধুদের জানান

ল হেল্প বিডি আইনের আলো ছড়িয়ে দেয়ার জন্য সাধারণ ভাবে আইন নিয়ে আলোচনা করে। আইনের আশ্রয়ে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য একজন আইনজীবীর পর্যাপ্ত গবেষণা ও কৌশল প্রয়োগ করেন যার ফলে তা সাধারণ আইনের ব্যতিক্রম হতে পারে, আমাদের লেখা এবং সাধারণ সাহায্য কোন আইনজীবীর বিকল্প নয়। প্রয়োজনে একজন বিজ্ঞ আইনজীবীর সাথে যোগাযোগ করুন।

আমাদের সেবা নিতে চাইলে ফর্ম, ই-মেইল lawhelpbd@gmail.com বা ফেসবুকের ম্যসেঞ্জারের মাধ্যমে আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন।

Rayhanul Islam

রায়হানুল ইসলাম বর্তমানে আইন পেশায় নিয়জিত আছেন, এছাড়াও তিনি লেখালেখি করেন এবং ল হেল্প বিডির সম্পাদক। তথ্য ও প্রযুক্তি, মনোবিজ্ঞান এবং দর্শনে তার বিশেষ আগ্রহ রয়েছে। প্রয়োজনে: rayhan@lawhelpbd.com more at lawhelpbd.com/rayhanul-islam

You may also like...

2 Responses

  1. মাহাবুবুর রহমান says:

    আসসালামুআলাইকুম
    আশাকরি আল্লাহ রহমতে ভালো আছেন। আমরাও আল্লাহ রহমতে ভালো আছি। আপনাদের পুরো আর্টিক্যাল পড়েছি এবং আমাদের কাছে খুবই ভালো লেগেছে। আমরা চার বন্ধু মিলে একটা ই-কমার্স ব্যবসা করতে চাচ্ছি আর ব্যবসাটা হবে সম্পুর্ণ অর্গানিক খাবার নিয়ে। আমাদের এই কোম্পানীর সম্পর্ণূ আইনী কাজ সম্পাদন করতে আপনাদের এবং সরকারী খরচ সহকারে কত হত পারে জানালে অতি দ্রুত আপনাদের সাথে যোগাযোগ করতি পারি। আমরা শুরু করতে চাচ্ছি দশ লক্ষ টাকা দিয়ে।

    আপনাদের উত্তরের আশায় রইলাম।

    ধন্যবাদান্তে
    মাহাবুুবুর রহমান
    নতুন উদ্ধক্তা

    • ওয়ালাইকুম আসসালাম,
      আপনাদের উদ্যোগে স্বাগতম। আশা করি আমরা সকল ধরনের সাহায্য ও সার্ভিস প্রদান করতে পারব। আপনাকে কোন এমাউন্ট বলার আগে কিছু বিষয় পরিষ্কার করে জানা প্রয়োজন। দয়া করে আমাদের ফোন নং – ০১৭১১৩৮৬১৪৬ নং এ যোগাযোগ করুন বা আমাদের ই-মেইল করুন lawhelpbd@gmail.com এই ঠিকানায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: দু:খিত এই লেখাটির মেধাসত্ত্ব সংরক্ষিত !!