অদ্ভুত জীন ডিফেন্স ও ফ্যাক্টস

জীনঃ
দেহকোষে অবস্থিত নিউক্লিয়াসে ফিতার মত প্যাঁচানো ডিএনএ-র ভিতরে প্রায় তিন বিলিয়ন base pair (কোড) পাওয়া যায়। কিছু base pair একত্রিত হয়ে তৈরি করে এক একটি জীন, যারা আপনার সকল বৈশিষ্ট্যের ধারক। অর্থাৎ এই জীনই নির্ধারণ করে আপনি দেখতে কেমন হবেন, আপনার শারীরিক-মানসিক কী কী বৈশিষ্ট্য থাকবে। সফটওয়্যার বানানোর সময় ডেভেলপাররা যেমন কোড লিখেন, এটাও তেমন।

আমরা সবাই কম-বেশী হেলথ ইনসিওরেন্সের পলিসি নিয়ে থাকি। জানেন কি, আপনার ডিএনএ টেস্ট করে ইনসিওরেন্স কোম্পানি বুঝতে পারবে আপনি ভবিষ্যতে কী কী রোগে আক্রান্ত হতে পারেন? তাই মনে প্রশ্ন আসতে পারে, আপনার আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনার উপর ভিত্তি করে তারা পলিসির টাকা বাড়িয়ে দিবে নাকি কমাবে?
.
ইউরোপিয়ানদের শরীরে “warrior gene” নামক একটা জীন পাওয়া যায়। যাদের শরীরে এই জীন উপস্থিত, তারা প্রাকৃতিকভাবেই একটু আগ্রাসী ধরণের হয় এবং তাদের মধ্যে যত্রতত্র অস্ত্র ব্যবহার করার প্রবণতা কাজ করে। Bradley Waldrop নামের এক লোক স্ত্রীকে হত্যা করে স্ত্রীর বন্ধুকে হত্যার চেষ্টা করার দায়ে অভিযুক্ত হন। পরে অভিযোগ প্রমাণিত হলে Bradly কোর্টে শেষ ডিফেন্স হিসেবে দেখিয়েছিলেন যে তার শরীরে “ওয়ারিওর জিন” আছে আর তাই তিনি প্রাকৃতিকভাবেই এই ঘটনা ঘটিয়েছেন। কোর্ট তার যুক্তি মেনে নিয়ে তাকে নামে-মাত্র সাজা দেন। এই ব্যাপারটিকে আপনি কীভাবে দেখবেন?
.
১৯৯৪ সালে এক মহিলা তার পুত্রকে হত্যার অভিযোগে অভিযুক্ত হন। পরে কোর্টে উনি ডিফেন্স দিয়েছিলেন যে, তার শরীরে Huntington’s disease এর (এটি এক প্রকার neurodegenerative জেনেটিক রোগ যেখানে রোগী পেশীর উপর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে এবং ক্রমান্বয়ে অস্বাভাবিক আচরণে লিপ্ত হয়) জীন আছে। কোর্ট তাকে বিনা শাস্তিতে ছেড়ে দেয়। এখন প্রশ্ন হচ্ছে উনি আসলেই Huntington’s disease এর রোগী ছিলেন নাকি Huntington’s disease এর রোগীর মত অভিনয় করে পার পেয়ে যান? কোর্টে কি আদৌ জীনকে ডিফেন্স হিসেবে দাঁড় করানো উচিৎ?
.
কিছু বিশেষ জীনের উপস্থিতির কারণে আপনি অন্যদের থেকে অ্যালকোহলের প্রতি একটু বেশীই আসক্ত হতে পারেন। আর এই আসক্তির কারণে যদি আপনি কোন অপরাধ ঘটান, তাহলে কি আপনাকে কম শাস্তি দেওয়া উচিৎ?
.
২০০০ সালে ইংল্যান্ডে Donna McLean নামক এক মহিলার শরীরে দুই কপি “Delta 32 version CCR5” জীন পাওয়া যায়। দুই কপি “Delta 32 version CCR5” জীন যদি আপনার শরীরে পাওয়া যায় তাহলে আপনার শরীর HIV ভাইরাস প্রতিরোধী। অর্থাৎ আপনার এইডসে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। তখন ওই মহিলা এটা নিজের নামে প্যাটেন্ট (নতুন কোন কিছু আবিষ্কার করলে সেটার উপর আপনার একছত্র অধিকার) করে নেন। এই “Delta 32 version CCR5” জীন ব্যবহার করে হয়তো এইডস রোগের একটা কার্যকর চিকিৎসা পদ্ধতি বের করা সম্ভব! কিন্তু সেটার জন্য গবেষকদের দরকার উক্ত জীন। প্রশ্ন হচ্ছে সেই প্যাটেন্টকারী এটা গবেষকদেরকে দেবেন নাকি একান্তই নিজের কাছে রেখে দেবেন? নাকি সেটা বিক্রি করে উনি বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার আয় করবেন?

সেইজন্য আমেরিকার সুপ্রিম কোর্ট ২০১৩ সালে একটা রুল জারি করেন যে, প্রাকৃতিকভাবে পাওয়া যায় এমন জীন প্যাটেন্ট করা যাবে না। কিন্তু এই রুল নিয়ে অনেক কোম্পানি অখুশী এবং বেশ বিতর্কও চলছে।
.
Reference:
https://www.coursera.org/course/genes

পোস্টটি লিখেছেন – আলী ইউসুফ

Facebook Comments

You may also like...

Leave a Reply

error: Content is protected !!
%d bloggers like this: