‘পারিবারিক আদালত’ ও এতে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া

আমাদের দেশের আদালতগুলোতে দেওয়ানি মামলার একটা বড় অংশই পারিবারিক আদালতে দায়ের করা হয়ে থাকে। অনেকেই পারিবারিক আদালত সম্পর্কে প্রয়োজনীয় জ্ঞান রাখেন না বলে মোকদ্দমা দায়েরের ক্ষেত্রে বিভ্রান্তিতে পড়েন। ১৯৮৫ সালের মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশের বিধানাবলি সাপেক্ষে পাঁচটি লিখিত বিষয়ের সঙ্গে সম্পর্কিত বা ওই বিষয়গুলো হতে উদ্ভূত মামলা গ্রহণ, বিচার এবং নিষ্পত্তি করার ও অন্যান্য এখতিয়ার রয়েছে পারিবারিক আদালতের। এই আদালতে বিচার্য বিষয়গুলো হলো_
১. বিবাহ-বিচ্ছেদ,
২. দাম্পত্য অধিকার পুনরুদ্ধার,
৩. স্ত্রীর দেনমোহর,
৪. স্ত্রীর খোরপোষ/ ভরণপোষণ,
৫. শিশু সন্তানের অভিভাবকত্ব, তত্ত্বাবধান ও খোরপোষ।

বিশেষভাবে মনে রাখতে হবে যে, এ বিষয়গুলোর সঙ্গে সম্পর্কিত বা এ বিষয়গুলো হতে উদ্ভূত কোনো মামলা অন্য কোনো আদালতে বিচারের আওতাভুক্ত হবে না। পারিবারিক আদালত গঠনের পূর্বে স্ত্রী ও সন্তানের ভরণপোষণ মামলা ফৌজদারি কার্যবিধির ৪৮৮ ধারা অনুযায়ী ম্যাজিস্ট্রেট কোর্টে বিচার নিষ্পত্তি হতো। কিন্তু বর্তমানে ফৌজদারি আদালতের এখতিয়ার এই আইন (পারিবারিক আদালত অধ্যাদেশ) দ্বারা ক্ষুণ্ন করা হয়েছে। পূর্বে অভিভাবক ও প্রতিপাল্য আইনের (গার্ডিয়ান অ্যান্ড ওয়ার্ডস অ্যাক্ট) বিষয়গুলো জেলা জজ আদালতে নিষ্পত্তি করা হতো। বর্তমানে এ বিষয়গুলোও পারিবারিক আদালতের এখতিয়ারে রয়েছে। উল্লেখ্য, ২০০৭ সালে ফৌজদারি কার্যবিধির যে সংশোধন করা হয়েছে তাতে ৪৮৮ নং ধারা বাতিল করা হয়েছে।
পারিবারিক আদালতে মামলা দায়েরের ক্ষেত্রে কয়েকটি ধারাবাহিক স্তর অতিক্রম করতে হয়। যেমন, মামলা দায়ের করতে হয় আর্জি দাখিলের মাধ্যমে। আর্জিতে বেশ কিছু বিষয় সনি্নবেশিত করতে হয়।
যেমন_
১. যে আদালতে মোকদ্দমা দায়ের করা হবে, সে আদালতের নাম,
২. বাদীর নাম, বিস্তারিত বর্ণনা ও বাসস্থানের ঠিকানা,
৩. বিবাদীর নাম, বিস্তারিত বর্ণনা ও বাসস্থানের ঠিকানা,
৪. যে ক্ষেত্রে বাদী বা বিবাদী নাবালক বা অপ্রকৃতিস্থ ব্যক্তি হয়, সে ক্ষেত্রে তার পক্ষে প্রতিনিধিত্বকারী ব্যক্তির বিবরণ,
৫. নালিশের কারণ এবং যে স্থানে ও যে তারিখে ঘটনাটি ঘটেছিল সে স্থান ও তারিখ যেসব তথ্যের ওপর আদালতের যথার্থ এখতিয়ার রয়েছে,
৬. মোকদ্দমার মূল্যমান ও
৭. বাদীর প্রার্থিত প্রতিকার।
পারিবারিক আদালত মূলত একটি দেওয়ানি প্রকৃতির বিশেষ আদালত এবং এই আদালতে উত্থাপিত মামলাগুলোও দেওয়ানি প্রকৃতির। সে কারণে দেওয়ানি মামলা পরিচালনার উপযুক্ত বিচারকরাই পারিবারিক আদালতে বিচারকার্য নিষ্পত্তি করেন। আমাদের দেওয়ানি কার্যবিধি ১৯০৮ দ্বারাই পারিবারিক আদালতের ক্ষমতা ও কার্যক্রম বহুলাংশে নিয়ন্ত্রিত হয়।

Facebook Comments

Rayhanul Islam

রায়হানুল ইসলাম বর্তমানে আইন পেশায় নিয়জিত আছেন, এছাড়াও তিনি লেখালেখি করেন এবং ল হেল্প বিডির সম্পাদক। তথ্য ও প্রযুক্তি, মনোবিজ্ঞান এবং দর্শনে তার বিশেষ আগ্রহ রয়েছে। প্রয়োজনে: [email protected]

You may also like...

Leave a Reply

error: Content is protected !!
%d bloggers like this: