ধর্ষণ কি? আইন, প্রতিকার ও বাস্তবতা [২০২০]

ধর্ষণ একটি ঘৃণ্যতম অপরাধ যা একজন মানুষকে শারীরিক ও মানুষিক ভাবে ধ্বংস করে দেয়, তাই এর জন্য রয়েছে কঠিন সাজা। দেখা যায় অনেকে ধর্ষণের স্বীকার হয়েও সমাজ ও আদালতের সম্মুখীন হতে হবে বলে বিষয়টা সয়ে যায়, কিম্বা যথা সময়ে সঠিক ব্যবস্থা না নেওয়ার ফলে ধর্ষকরা আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে। আবার অন্যদিকে এও দেখা যে যায় যে আইন ভিক্টিমের পক্ষে হওয়ায় এই ধর্ষণের অভিযোগে অনেক মিথ্যে মামলাও হয় যার ফলে অনেক নিরপরাধ মানুষ-ও ভোগান্তির স্বীকার হয়। 

তাই ধর্ষণের বিচার সহ সকল বিষয়ে আমরা সহজ ভাষায় আলোচনা করবো।

ধর্ষণের সংজ্ঞা

বাংলাদেশ দণ্ডবিধির ৩৭৫ নং ধারা অনুযায়ী; 

কোন পুরুষ অতঃপর উল্লেখিত ব্যতিক্রম ভিন্ন অপর সকল ক্ষেত্রে নিম্নোক্ত পাঁচটি যেকোনো অবস্থায় কোন স্ত্রীলোকের সাথে যৌনসংগম করলে সে ধর্ষণ করেছে বলে পরিগণিত হবে।

  • প্রথমত:- স্ত্রীলোকটির ইচ্ছার বিরুদ্ধে । অথবা, 
  • দ্বিতীয়ত:- স্ত্রীলোকটির সম্মতি ব্যতিরেকে। অথবা, 
  • তৃতীয়ত:- স্ত্রীলোকটির সম্মতিক্রমেই, যেক্ষেত্রে মৃত্যু বা জখমের ভয় প্রদর্শন করে স্ত্রীলোকটির সম্মতি আদায় করা হলে। অথবা
  • চতুর্থত- স্ত্রীলোকটির সম্মতিক্রমেই, যেক্ষেত্রে পুরুষটি জানে যে, সে স্ত্রীলোকটি স্বামী নয়, এবং পুরুষটি ইহার জানে যে, স্ত্রীলোকটি তাকে এমন অপর একজন পুরুষ বলে ভুল করেছে, যে পুরুষটির সাথে সে আইন সম্মত ভাবে বিবাহিত হয়েছে বা বিবাহিত বলে বিশ্বাস করে । অথবা,
  • পঞ্চমত:- স্ত্রীলোকটির সম্মতিক্রমে অথবা সম্মতি ব্যতিরেকে, যতি স্ত্রীলোকটির বয়স চৌদ্দ বৎসরের কম হয়।

এখানে উল্লেখ্য যে, যৌনাঙ্গ অনুপ্রবেশ হলে তা যৌন সহবাস অনুষ্ঠানের জন্য যথেষ্ট বিবেচিত হবে এবং তা ধর্ষণ বলে বিবেচিত হবে।

ধর্ষণ আইন

ধর্ষণ আইন, প্রতিকার ও বাস্তবতা

ধর্ষণের সাজা

দণ্ডবিধির অধীনে সাজা

আমাদের সাধারণ আইন অর্থাৎ দণ্ডবিধির ১৭৬ ধারা অনুসারে, ধর্ষণের সাজা হল সর্বোচ্চ যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড এবং জরিমানা কিন্তু যদি কোন ব্যক্তি তার ১২ বছরের কম বয়সী স্ত্রীকে ধর্ষণ করে সেক্ষেত্রে তারা সাজা হতে পারে সর্বোচ্চ ২ বছর কারাদণ্ড বা অর্থদণ্ড বা দুটোই।

এখানে অনেকেই প্রশ্ন করেন, “ধর্ষণের সাজা কেন মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়নি?” এখানে একটা কথা বলে রাখা ভাল যে ব্রিটিশরা যেসব আইন আমাদের করে দিয়ে গেছে এসব আইনের গুণগত মান আসলে বর্তমান আইনের চেয়ে ভাল তারা অনেক বিষয় বিবেচনা করে, বিজ্ঞজনরা একসাথে বসে বিতর্ক করে, সময় নিয়ে ভেবে-চিন্তে এইসব আইন করেছেন। 

এই প্রশ্নটা একজন আইন প্রণেতা ব্যখ্যা করতে গিয়ে বলেছেন। 

যদি ধর্ষণে শাস্তি মৃত্যু দণ্ড দেয়া হয় তবে ধর্ষণের পরে কোন ধর্ষিতা আর জীবিত থাকবে না, কারণ তখন হত্যা আর ধর্ষণ সমান সাজার অপরাধ হয়ে যাবে ফলে ধর্ষণ করার পর ধর্ষিতা কে হত্যা করা হবে।

তবে ধর্ষণের ফলে হত্যা হলে তা হত্যা বলে বিবেচিত হবে এবং যার জন্য মৃত্যুদণ্ডের বিধান রয়েছে।

 

নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ এর অধীনে সাজা

এই তো গেল আমাদের সাধারণ আইনের কথা তবে আমাদের একটা বিশেষ আইনও রয়েছে যার নাম নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ যেখানে ৯ ধারায় ধর্ষণ, ধর্ষণ জনিত কারণে মৃত্যু, ইত্যাদির শাস্তির কথা বলা হয়েছে। 

(১) যদি কোন পুরুষ কোন নারী বা শিশুকে ধর্ষণ করেন, তাহা হইলে তিনি [মৃত্যুদণ্ডে বা যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ডে] দণ্ডনীয় হইবেন এবং ইহার অতিরিক্ত অর্থদণ্ডেও দণ্ডনীয় হইবেন।

ব্যাখ্যা৷- যদি কোন পুরুষ বিবাহ বন্ধন ব্যতীত ষোল বৎসরের] অধিক বয়সের কোন নারীর সহিত তাহার সম্মতি ব্যতিরেকে বা ভীতি প্রদর্শন বা প্রতারণামূলকভাবে তাহার সম্মতি আদায় করিয়া, অথবা [ষোল বৎসরের] কম বয়সের কোন নারীর সহিত তাহার সম্মতিসহ বা সম্মতি ব্যতিরেকে যৌন সঙ্গম করেন, তাহা হইলে তিনি উক্ত নারীকে ধর্ষণ করিয়াছেন বলিয়া গণ্য হইবেন।

(২) যদি কোন ব্যক্তি কর্তৃক ধর্ষণ বা উক্ত ধর্ষণ পরবর্তী তাহার অন্যবিধ কার্যকলাপের ফলে ধর্ষিতা নারী বা শিশুর মৃত্যু ঘটে, তাহা হইলে উক্ত ব্যক্তি মৃত্যুদণ্ডে বা যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় হইবেন এবং ইহার অতিরিক্ত অন্যূন এক লক্ষ টাকা অর্থদণ্ডেও দণ্ডনীয় হইবেন।

(৩) যদি একাধিক ব্যক্তি দলবদ্ধভাবে কোন নারী বা শিশুকে ধর্ষণ করেন এবং ধর্ষণের ফলে উক্ত নারী বা শিশুর মৃত্যু ঘটে বা তিনি আহত হন, তাহা হইলে ঐ দলের প্রত্যেক ব্যক্তি মৃত্যুদণ্ডে বা যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় হইবেন এবং ইহার অতিরিক্ত অন্যূন এক লক্ষ টাকা অর্থদণ্ডেও দণ্ডনীয় হইবেন।

(৪) যদি কোন ব্যক্তি কোন নারী বা শিশুকে-

  • (ক) ধর্ষণ করিয়া মৃত্যু ঘটানোর বা আহত করার চেষ্টা করেন, তাহা হইলে উক্ত ব্যক্তি [মৃত্যুদণ্ডে বা যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ডে] দণ্ডনীয় হইবেন এবং ইহার অতিরিক্ত অর্থদণ্ডেও দণ্ডনীয় হইবেন;
  • (খ) ধর্ষণের চেষ্টা করেন, তাহা হইলে উক্ত ব্যক্তি অনধিক দশ বৎসর কিন্তু অন্যূন পাঁচ বৎসর সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় হইবেন এবং ইহার অতিরিক্ত অর্থদণ্ডেও দণ্ডনীয় হইবেন।
  • (৫) যদি পুলিশ হেফাজতে থাকাকালীন সময়ে কোন নারী ধর্ষিতা হন, তাহা হইলে যাহাদের হেফাজতে থাকাকালীন উক্তরূপ ধর্ষণ সংঘটিত হইয়াছে, সেই ব্যক্তি বা ব্যক্তিগণ ধর্ষিতা নারীর হেফাজতের জন্য সরাসরিভাবে [দায়িত্বপ্রাপ্ত] ছিলেন, তিনি বা তাহারা প্রত্যেকে, ভিন্নরূপ প্রমাণিত না হইলে, হেফাজতের ব্যর্থতার জন্য, অনধিক দশ বৎসর কিন্তু অন্যূন পাঁচ বৎসর সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় হইবেন এবং ইহার অতিরিক্ত অন্যূন দশ হাজার টাকা অর্থদণ্ডেও দণ্ডনীয় হইবেন।

 

প্রসঙ্গত, নারী নির্যাতন বেড়ে যাওয়ায় এই আইনটি প্রণয়ন করা হয়েছে। এই আইনে প্রক্রিয়াগত কারণে আজকাল প্রায় সকল ধর্ষণের অভিযোগ-ই নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের অধীনে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে করা হয়।

২০২০ সালে পরপর কয়েকটি ধর্ষণে ঘটনা সামনে চলে আসলে সরকার জনগণের ইচ্ছার প্রেক্ষিতে  “নারী ও শিশু নির্যাতন দমন (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২০” নামে দ্রুত একটি সংশোধন প্রণয়ন করেন। যেখানে ধর্ষণের ক্ষেত্রে সাজা বাড়িয়ে সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড করা হয়।

তবে এখানে একটা বিষয় মনে রাখতে হবে এই সংশোধন হওয়ার আগে যে ধর্ষণ হয়েছে তার সাজা স্বরূপ সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড দেয়া যাবে না এটা আইনের একটি মূল নীতি যাকে যা ফৌজদারী আইন কঠোর ভাবে মানা হয়। যদি কোন আইন পরে হয় এবং আগে সংগঠিত কোন বিষয় ঐ নতুন আইন বা সংশোধনে বিচার করতে হয় তবে সেই (নতুন) আইন retrospective effect বা ভূতাপেক্ষ কার্যকারিতা প্রদান করতে হয় যা ফৌজদারী আইনে প্রদান করা হয় না।

 

ধর্ষণ আইনটি সংক্ষেপে বুঝতে আমাদের এই ভিডিওটি দেখতে পারেন।

পুরুষ ধর্ষণ, সমকামিতা ও অন্যান্য

এখন নতুন ধারার মিডিয়ায় পুরুষ ধর্ষণ নামের টার্ম মাঝে মাঝে দেখা যায়, আবার তা অনেক সময় ফেসবুকে ঘুরে বেড়ায়। তবে আইনে আসলে পুরুষ ধর্ষণ বলে কিছু নেই। তবে দণ্ডবিধির ৩৭৭ ধারায় অ-প্রাকৃতিক অপরাধের কথা বলা হয়েছে। এই ধারায় বলা হয়েছে।

কোন ব্যক্তি যদি প্রকৃতির নিয়মের বিরুদ্ধে কোন পুরুষ, স্ত্রীলোক বা পশুর সাথে যৌন সঙ্গম করে, তবে সে ব্যক্তি যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে, অথবা দশ বৎসর পর্যন্ত যে কোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে এবং তদুপরি অর্থ দণ্ডেও দণ্ডিত হবে। এবং এই ধারাই সমকামিতা, শিশুকাম, নারীদের দ্বারা জোর করে পুরুষের সাথে যৌন সম্পর্ক ইত্যাদি দণ্ডনীয় অপরাধ হিসেবে প্রকাশ করে।

বৈবাহিক ধর্ষণ

আমাদের দেশে বৈবাহিক ধর্ষণ বলতে স্বীকৃত কোন সংজ্ঞা নেই তবে, দণ্ডবিধির ৩৭৫ ধারা এবং এর ব্যতিক্রম থেকে আমারা বলতে পরি।

বিয়ের পর কোন স্বামী যদি তার ১৩ বছরের কম বয়সী স্ত্রীকে তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে ধর্ষণ করে তবে তা ধর্ষণ বলে বিবেচিত হবে এবং এই ধষর্ণকে আমারা বৈবাহিক ধর্ষণ বলতে পারি। 

এখন প্রশ্ন আসতে পারে ১৩ বছরের আগেতো বিয়ে করলেতো বিয়েই হয় না। এখানে দুটি কথা বলার থাকে 

আমাদের দেশে বিবাহিক ধর্ষণ স্বীকৃত না হলেও পৃথিবীর অনেক দেশেই বিয়ের পর যৌন সম্পর্ক স্থাপনে স্ত্রী অস্বীকৃতি জানালে এবং তারপরও স্বামী জোর করে যৌন সম্পর্ক করলে তাকে ধর্ষণের পর্যায়ে ফেলে। 

আমাদের ব্যক্তিগত / পারিবারিক আইনের কারণে বৈবাহিক ধর্ষণের বিষয়টি সামনে নিয়ে আসতে হলে আমাদের ব্যক্তিগত আইন বা বিয়ের আইন পরিবর্তন করা জরুরী, সেই সাথে সমঅধিকার ও সংসারে সমান অবদানের ব্যাপারও প্রতিষ্ঠা করতে হবে এবং মানুষের মানুষিকতার পরিবর্তন করতে হবে। 

অন্যদিকে বৈবাহিক ধর্ষণের ব্যাপারে সরাসরি কিছু বলা না হলেও আমাদের পারিবারিক সহিংসতা (প্রতিরোধ ও সুরক্ষা) আইন, ২০১০ -এ ৩(গ) ধারায় Sexual Abuse’র কথা উল্লেখ করা হয়েছে যার মাধ্যমে বৈবাহিক ধর্ষণের প্রতিকার পাওয়া যাতে পারে। যদিও এর কোন সুস্পষ্ট সংজ্ঞা প্রদান করা হয় নি।

ধর্ষণের চেষ্টা ও আত্মরক্ষার অধিকার

কেউ যদি আপনাকে বা অন্য কাউকে ধর্ষণের চেষ্টা করে তবে আইন আপনাকে নিজের আত্ম রক্ষা বা অন্য কারোর সম্ভ্রম রক্ষার অধিকার দিয়েছে এবং এই আত্মরক্ষার জন্য আপনি চাইলে আক্রমণকারীকে খুন পর্যন্ত করতে পারেন। তবে এই আত্মরক্ষার অধিকারটি অত্যন্ত বিবেচনার সাথে ব্যবহার করতে হবে নয়তো আপনি হত্যার অপরাধে অপরাধী হতে পারেন।

বিষয়টি এমন নয় যে কেউ মুখে বলল যে আমি তোমাকে ধর্ষণ করবো আর আপনি দ্রুত দা নিয়ে তাকে কুপিয়ে খুন করে ফেললেন। যখন কেউ আপনাকে ধর্ষণ করার চেষ্টা করবে, ধরুন আপনার গায়ে হাত দিল বা এমন কিছু করলো যাতে আপনি বুঝলেন ওই অবস্থা আপনি ধর্ষিত হতে যাচ্ছেন, আপনি তাকে যথাযথ ভাবে বাধা প্রদান করে তাকে নিবারণের চেষ্টা করবেন এবং যখন বুঝবেন এই বাধায় কাজ হবে না বা জরুরী ভিত্তিতে তাকে না থামালে আপনি বা অন্য কেউ ধর্ষিত হবে তখনি কেবল আপনি মারাত্মক আঘাত বা প্রয়োজনে হত্যা-ও করতে পারবেন।

এই আইনি বিষয়গুলো আরও বিস্তারিত বুঝতে দণ্ডবিধির ৯৬ ধার থেকে ১০২ ধারা দেখুন।

ধর্ষণের স্বীকার হবেন মনে করলে কি করবেন?

আপনার যদি মনে হয় যে আপনি কোন বাজে পরিস্থিতিতে পরতে যাচ্ছেন যেখানে ধর্ষণের সম্ভাবনা আছে, তখন অতি দ্রুত আপনার নিকটবর্তী ও সুসম্পর্কের মানুষটিকে ফোন করে বিষয়টি অবহিত করুন ও সাহায্য প্রার্থনা করুন। সাথে সাথে আপনার লাইভ লোকেশনটি মোবাইল এপের মাধ্যমে শেয়ার করুন। 

উল্লেখ্য ফেসবুক ম্যসেঞ্জার, হোয়াটস এপ ও গুগল ম্যাপ সহ অন্যান্য এপের মাধ্যমে আপনি খুব সহজেই আপনার লাইভ লোকেশনটি শেয়ার করতে পারে। এবং বিপদে পড়লে যাতে দ্রুত এই ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারেন। তাই আগেই নেট কেনা, GPS অন করা, এপ ব্যবহার করা, কাকে প্রেরণ করবেন তার সাথে বিষয়টি শিখে রাখুন, চর্চা রাখুন এবং যার সাথে শেয়ার করবেন তার সাথে আলোচনা করে রাখুন। কারণ বিপদে পড়লে আপনি হিতাহিত জ্ঞান শূন্য হয়ে পরবেন এবং এসব কাজ আগে না ঠিক করে রাখলে করতে পারবেন না।

সর্বোপরি আপনার যদি মনে হয় কেউ আপনাকে আক্রমণ করতে যাচ্ছে, উপরের কাজ করার সাথে সাথে ৯৯৯ এ ফোন করুন। 

অনেক সময় হতে পারে আপনি এমন একটা অবস্থায় যা যায়গায় আছেন যা আপনার পরিবার জানে না বা জানলে আপনাকে অনেক কথা শুনতে হতে পারে কিন্তু জীবন ও সম্ভ্রম বাঁচানের জন্য এগুলো না ভেবে কোন খারাপ পরিস্থিতি উদীয়মান হলে অন্য চিন্তা বাদ দিয়ে আপনাকে আপনার পরিবার পরিজনের সাহায্য নিতে হবে।

আপনার মোবাইলে ডিফল্ট সিস্টেম ব্যবহার করে একটি বাটন ক্লিক করে খুব সহজেই আপনি আপনার বিশ্বস্ত মানুষকে আপনার অবস্থা ও লোকেশন সম্পর্কে এসএমএস এর মাধ্যমে তথ্য দিতে পারেন। কিভাবে তা করবেন যানতে নিচের ভিডিওটি দেখুন

ধর্ষিত হলে কি করবেন?

কেউ যদি ধর্ষণের স্বীকার হয় এবং তাৎক্ষনিক পুলিশকে বিষয়টি জানাতে হবে, এবং নিকটস্থ থানায় যেতে হবে, পুলিশ আপনার হয়ে এজাহার দায়ের করবে। আর যদি শারীরিক বা মানুষিক অবস্থা খারাপ হয় তবে পুলিশকে ৯৯৯ এর মাধ্যমে তথ্যটি প্রদান করেই নিকটস্থ হাসপাতালে যেতে হবে। (সরকারি হাসপাতাল হলে ভাল হয়)

পুলিশ এজাহার না নিতে চাইলে

অনেক সময় দেখা যায় দেরীতে পুলিশের কাছে গেলে পুলিশ ধর্ষণে মামলা নিতে চায় না, অবশ্য এর কারণ হচ্ছে মিথ্যা মামলার আধিক্য। পুলিশের কাছে যদি আপনি ঘটনা ও আলামত সঠিক ভাবে না উপস্থাপন না করতে পারেন তবে পুলিশ আপনার মামলা নও নিতে পারে। সেক্ষেত্রে আপনাকে একজন বিজ্ঞ আইনজীবীর মাধ্যমে ম্যাজিস্ট্রেট কোর্টে মামলা করতে হবে।

মনে রাখবেন একজন প্রকৃত ভিক্টিমের ভয় পাওয়ার বা লজ্জা পাওয়া কিছু নেই। বিচার চাওয়া ও বিচার পাওয়া আপনার অধিকার, কে কি বলল সে বিষয়ে ভাবার প্রয়োজন নেই।

আলামত ও প্রমাণ

ধর্ষণ প্রমাণের জন্য আলামত খুব-ই গুরুত্বপূর্ন। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ন হচ্ছে মেডিকেল রিপোর্ট, তাই যথা দ্রুত সরকারি হাসপাতাল থেকে মেডিকেল রিপোর্ট গ্রহণ করুন।

ধর্ষণের পর দ্রুত সরকারী হাসপাতালে চলে যান, মেডিকেল রিপোর্টের আগে গোসল করবে না, কিছু খাবেন না, আপনার বিশেষ অঙ্গ ইত্যাদি পরিষ্কার করবেন না। জামা-কাপড় পরিবর্তন করার প্রয়োজন হলে জামাকাপড়, অন্তর্বাস, প্যাড ইত্যাদি একটি পলিথিনে মুখ বন্ধ করে সংরক্ষণ করুন। যদি সম্ভব হয় শরীরের ও জামাকাপড়ের ছবি তুলে রাখুন।

ধর্ষণ সাধারণত নির্জন যায়গায় হয়ে থাকে আবার ধর্ষণের পরে অধিকাংশ নারী ট্রামায় পরে যায় তাই তারা অনেক কিছুই ঠিক ঠাক মনে করতে পারে না। তাই ধর্ষিতা উদ্ধার হওয়ার পরে তার মানুষিক অবস্থায় বিষয়টি বর্ণনা করার মত অবস্থায় থাকলে বিষয়টি লিখে রাখা প্রয়োজন যা পুলিশকে তদন্ত করতে, দ্রুত আসামীকে ধরতে ও বিষয়টি প্রমাণ করতে কার্যকরী ভূমিকা রাখবে। যতটা সম্ভব ঘটনার সময়, কাল, স্থান, কারা ছিল, কে কাকে কি নামে ডাকছিল, কি পরিচয় দিয়েছিল ইত্যাদি মনে করে লিখে রাখতে হবে।

অন্যদিকে ধর্ষিত হওয়া নারী যে যারা উদ্ধার কারেছে তাদের কাছ থেকেও যাতটা সম্ভব এবং যত দ্রুত সম্ভব পরিস্থিতির বর্ণনা নেওয়া উচিৎ। যদিও এই কাজগুলো পুলিশের কিন্তু পুলিশ আসতে আসতে ও তদন্ত করতে করতে কিছুটা বিলম্ব হতে পারে তাই নিজ উদ্যোগে পরিবারের কেউও এই কাজটা করতে পারেন।

অনেক সময় দেখা যায় দেরি হওয়ার কারণে বা সাক্ষীদের খুঁজে না পাওয়ার কারণে আলামত নষ্ট হয় এবং মামলা প্রমাণ করা কষ্টকর হয়ে যায়।

মনে রাখবেন, একজন ধর্ষিতা অপরাধী নন তাকে সব সময় সাহায্য করতে হবে, শাহস দিতে হবে এবং একজন ভিক্টিম হিসেবে দেখতে হবে। 

বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষণ

বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষণ বলতে আইনে কিছু নেই এই টার্মটা কিছু দুষ্ট আইনজীবীর অপ্রয়োজনীয় আবিষ্কার। তারা সম্মতি সহ যৌন সম্পর্ক কে ধর্ষণের আকার প্রদান করার জন্য এই টার্মটি ব্যবহার করে থাকে। আমি ব্যক্তিগত ভাবে বিস্মিত যে পুলিশ ও আদালত এই ধরনের মামলা গ্রহণ করেন যখন কিনা অনেক ধর্ষণের মামলা তারা মিটমাট করিয়ে দেয়ার চেষ্টা করেন। হয়তো তাদের এইসব মামলা নেয়ার কোন কারণ আছে যা তারাই ভাল বুঝতে পারবে।

আইনের চোখে প্রাপ্ত বয়স্ক একজন নারী ও পুরুষ নিজেদের সম্মতির ভিত্তিতে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করতে পারে এবং সেই সম্পর্ক স্থাপনের পরে যদি একজন মনে করেন যে আমি সম্মতি দেইনি তবে সেই Change of Mind এর কারণে কোন শারীরিক সম্পর্ক ধর্ষণে রূপান্তরিত হয় না। অন্যদিকে কেউ যদি বিয়ের কথা বলে  যৌন সম্পর্ক স্থাপন করে তবে সে একটা প্রমিজ করে এবং প্রমিজ ভঙ্গ করে তবে এটা কোন চুক্তি হয় না কারণ বিয়ের শর্তে কোন চুক্তি বৈধ না বরং তা যৌতুক হিসেবে ধরা যেতে পারে। তাই এখানে সর্বোচ্চ বিশ্বাস ভঙ্গ বা প্রতারণার মামলা হতে পারে, তবে এই বিষয়ে আইনে সরল ভাষায় বলে একজন প্রাপ্ত বয়স্ক মানুষের যে কোন বিষয় বিচার বিবেচনা করে, বিপদ চিন্তা করে সেই কাজটা করা উচিৎ যদি সে সেটা না করে তবে তিনি বোকামি করবেন এবং স্বাভাবিক ভাবেই সেই বোকামির দণ্ড তাকে পেতে হবে। কিন্তু তাই বলে এটা ধর্ষণ হবে না।

বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষণ বিষয়টিকে সবিস্তারে জনাতে এই লেখাটি দেখুণ : বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষণ! আইন কি বলে?

তবে কেউ যদি প্রতারণা করে কোন মেয়েকে এটা বিশ্বাস করায় যে সে তার স্বামী এবং তারপর দৈহিক মিলনে তবে সে ক্ষেত্রে সে দন্ডবিধির ৪৯৩ অনুসারে দোষি হবে এবং যার ফলে তার সর্বোচ্চ ১০ বছর পর্যন্ত সাজা হতে পারে। এ বিষয়ে আরো বিস্তারিত দেখুন এখানে: তবে কেউ যদি প্রতারণা করে কোন মেয়েকে এটা বিশ্বাস করায় যে সে তার স্বামী এবং তারপর দৈহিক মিলনে তবে সে ক্ষেত্রে সে দণ্ডবিধির ৪৯৩ অনুসারে দোষী হবে এবং যার ফলে তার সর্বোচ্চ ১০ বছর পর্যন্ত সাজা হতে পারে। এ বিষয়ে আরও বিস্তারিত দেখুন এখানে: বিয়ে নিয়ে প্রতারণা ও আইনি প্রতিকার

অন্যদিকে ধর্ষণ প্রমাণ করতে প্রমাণ করতে হবে যে সে ধর্ষণ থেকে বাচার জন্য বাধা প্রদান করেছিল। যা উল্লেখ করা হয়েছে Sohel Rana (Md) Vs State 57 DLR 591 কেইসে।

অন্যদিকে কোন আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে তার প্রভাব এবং বিপরীত দিকটাও দেখতে হয়। যেমন ধরুন যদি মেয়েরা বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষণ প্রসঙ্গটি আনে এবং তা আইনে স্বীকৃত হয় তখন প্রসঙ্গ আসে মেয়েরা যদি কোন ছেলের সাথে বিয়ের প্রলোভনে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করে এবং পরে বিয়ে না করে তবে কি হবে? একই ভাবে বিয়ে করবে প্রমিজ করে কেউ যদি কারো কাছ থেকে দিনের পর দিন অর্থনৈতিক ও অন্যান্য সাহায্য নেয় তবে কি হবে? এই বিষয়গুলোর যথাযথ এবং তুলনা মূলক আইনি ব্যখ্যা না আসা পর্যন্ত “বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষণ” বিষয়টি নিয়ে কোন আপনি প্রতিকার দেওয়া যথাযথ হবে না।

যদি কেউ আইনে স্বাভাবিক প্রক্রিয়া ব্যাহত করে এবং আইনের অপপ্রয়োগ করে তবে তা সমাজে ধর্ষণের মত ঘৃণ্য বিষয়টিকে একটি সস্তা টুল হিসেবে প্রকাশ করবে এবং মানুষ প্রকৃত ভিক্টিমকে এবং অপব্যবহারকারীদের কাছ থেকে আলাদা করতে পারবে না ও তাদের প্রতি নেগেটিভ ভাবে দেখবে।

আর প্রেমে প্রতারিত হলে সে জন্যও আছে কিছু আইনি প্রতিকার; দেখুন: প্রেম প্রতারণা ও আইনি সমাধান

ধর্ষণ ও রাজনীতি

পৃথিবীর সকল দেশেই ধর্ষণ কেন্দ্রিক রাজনীতি দেখা যায়, কোন উদীয়মান রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের চরিত্র হরণ করতে হুট-হাট তার বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ অনেক উন্নত বিশ্বেও দেখা যায়। তবে আমাদের দেশের এর নতুন মাত্রা পেয়েছে। আমাদের দেশে দেখা যায় কেউ ধর্ষণ হলেও রাজনৈতিক কারণে সেই মামলা পুলিশ নেয় না বা বিষয়টি আদালতের বাইরে মিটমাট করে দেয়ার চেষ্টা করে। আবার অন্যদিকে বিরোধী পক্ষের ব্যাপারে দেখা যায় কোন ধর্ষণের অভিযোগ আসা মাত্রই তা দ্রুততার সাথে তদন্ত ও এরেস্ট করা হয়।

এই বিষয়টা খেয়াল রেখে কিছু ধর্ষণকে আরও কিছু দিকে থেকে বিশ্লেষণ করা প্রয়োজন এবং বিচার হবার আগেই মিডিয়া ট্রায়েল পরিহার করা প্রয়োজন।

ধর্ষণ ও সালিশ

অনেক সময় দেখা যায় ধর্ষণ নিয়ে গ্রামের চেয়ারম্যান মেম্বার বা মুরুব্বিরা ঘরোয়া ভাবে সালিশ করে যা আইনত বৈধ নয় তাই ধর্ষণ হলে অন্য কোথাও না গিয়ে পুলিশের কাছে বা উকিলের মাধ্যমে আদালতে যেতে হবে।

আদালতে বাস্তবতা

বলা হয়ে থাকে ধর্ষণের মামলায় ধর্ষিতাকে আবারো সবার সামনে ধর্ষণ করা হয়। আদালতে সাক্ষ্য প্রমাণের প্রয়োজন হয় তাই আদালতে ধর্ষণ কিভাবে ঘটলো কেন ঘটল ইত্যাদি প্রসঙ্গ বার বার চলে আসে যা একজন ধর্ষিত নারীর জন্য সুখকর নয়, অন্যদিকে আইন কোন মানুষের চরিত্র সম্পর্কে প্রশ্ন করার অধিকার দেয় যাতে করে রিলেভেন্ট কিছু বিষয় স্পষ্ট হয় তখন ধর্ষিতাকে নানা ধরনে প্রশ্নের সম্মক্ষিন হতে হয়, অনেক সময় দেখা যায় এই সমাজের কিছু কিট আদালত চত্বরে ও পুলিশ ষ্টেশনেও কাজ করে তারা কোন ছুতয় রগরগে ধর্ষণের বর্ণনা চায় যেখানে ভিক্টিমকে প্রয়োজনে সেই বর্ণনা দিতে হয়।

আবার আমাদের আদালতের মামলা আধিক্য একই আদালতের অনেক দায়িত্ব, সাক্ষীর অনুপস্থিতি ইত্যাদির কারণে দিনের পর দিন তারিখের পর তারিখ পরে ফলে বছরের পর বছর চলে যায়। এছাড়াও দেখা যায় পাবলিক প্রসিকিউটর অনেক সময় যথাযথ প্রস্তুতি না নিয়েই আদালতে চলে আসেন যার ফলে মামলায় দেরি হয়। তবে প্রসঙ্গত আপনি পিপির সাথে আলোচনা করে ব্যক্তিগত উদ্যোগে  আপনার জন্য চাইলে বিশেষ উকিল নিয়োগ করতে পারেন। এসবের ফলে অনেক সময়-ই ভিক্টিম মামলায় লেগে থাকার আগ্রহ হরায় এবং যার ফলে মামলা প্রমাণ করা কষ্টকর হয় যায়। তবে ঘটনা সত্য হলে, মেডিকেল রিপোর্ট থাকলে এবং লেগে থাকলে ধর্ষণের বিচার হয়।

ধর্ষণের মিথ্যা মামলা করলে কি করবেন?

ধর্ষণ যেমন একটি ভয়ঙ্কর সত্যি তেমনি আরও একটি ভয়ঙ্কর ব্যপার হচ্ছে ধর্ষণের আইনের অপব্যবহার। অনেকেই দেখা যায় প্রেমে ব্যর্থ হয়ে প্রেমিককে পাওয়ার জন্য বা শিক্ষা দেওয়ার জন্য ধর্ষণের মামলা করে দেয়। অনেকে আবার যৌন সম্পর্ক করে ব্লাকমেইল করে এবং আইনের অপব্যবহার করে।

তবে অনেকেই এটা যানে না যে, ধর্ষণের মিথ্যা মামলা করলে তার ৭ বছর পর্যন্ত কারাদন্ড বা অর্থদণ্ড হতে পারে। তবে আগে উভয় পক্ষকে মামলটি লড়ে যেতে হবে এবং আসামিকে প্রমাণ করতে হবে মামলাটি মিথ্যে ও হয়রানি করার জন্য করা হয়েছে। প্রসঙ্গত: অপ্রমাণিত হচ্ছে যে ভিক্টিম মামলাটি প্রমাণ করতে ব্যর্থ হয়েছেন এর মানে এই নয় যে মামলটি মিথ্যা, অন্যদিকে মিথ্যা প্রমাণিত বলতে বোঝায় মামলার বিষয়বস্তুটি মিথ্যা প্রমাণ হয়েছে।

মিথ্যা মামলার ব্যাপারে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ এর ১৭ ধারায় বলা হয়েছে;

মিথ্যা মামলা, অভিযোগ দায়ের ইত্যাদির শাস্তি

(১) যদি কোন ব্যক্তি অন্য কোন ব্যক্তির ক্ষতিসাধনের অভিপ্রায়ে উক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে এই আইনের অন্য কোন ধারার অধীন মামলা বা অভিযোগ করার জন্য ন্যায্য বা আইনানুগ কারণ নাই জানিয়াও মামলা বা অভিযোগ দায়ের করেন বা করান তাহা হইলে মামলা বা অভিযোগ দায়েরকারী ব্যক্তি এবং যিনি অভিযোগ দায়ের করাইয়াছেন উক্ত ব্যক্তি অনধিক সাত বৎসর সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হইবেন এবং ইহার অতিরিক্ত অর্থদণ্ডেও দণ্ডনীয় হইবেন৷  

(২) কোন ব্যক্তির লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে ট্রাইব্যুনাল উপ-ধারা (১) এর অধীন সংঘটিত অপরাধের অভিযোগ গ্রহণ ও মামলার বিচার করিতে পারিবে৷

চাইলে আদালত মিথ্যা মামলার জন্য নিজেই মিথ্যা মামলাটির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারেন, আদালত স্ব-প্রণোদিত হয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে ভুক্তভোগী বিষয়টি নিয়ে আলাদা মামলা করে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারেন।

 

আলোচনা

ধর্ষণের আমারা নানান রূপ আজকাল দেখতে পাচ্ছি যেমন, বৈবাহিক ধর্ষণ, পুরুষ ধর্ষণ, শিশু ধর্ষণ, সমকামিতা, একই সেক্সের মানুষকে ধর্ষণ কিন্তু আমাদের আইন অনেক বিষয়েই নিশ্চুপ। আমাদের দেশের আইনগুলো সাধারণত উচ্চ সাজা প্রদান করে অপরাধ সংগঠন নিয়ন্ত্রন করতে চায়, একদিকে এটি একটি ভুল এপ্রোচ অন্যদিকে আইনের সাথে সাথে, যোগাযোগ, প্রযুক্তি, ট্রেনিং, আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও বিচারক নিয়োগ আদালত গঠন ইত্যাদিও করতে হবে।

অন্যদিকে আইনের নানা দিক ও উচ্চ আদালতের রায় বাস্তবায়ন ও প্রয়োগ যথাযথ ভাবে হচ্ছে কিনা তা দেখতে হবে এবং এই বিষয়ে বিশেষ টাস্কফোর্স নিয়োগ দিতে হবে। ভিক্টিমের নিরাপত্তা ও সাক্ষীর নিরাপত্তা আইন ও সেই সঙ্গে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করাও প্রয়োজন। অন্যদিকে উচ্চ আদালতের রায় ও বাস্তবতা বিবেচনা করে আইনকে কোড হিসেবে সকল আইনকে এক স্থানে সামঞ্জস্যপূর্ণ ভাবে একসাথে আনাও প্রয়োজন। সেই সাথে মিথ্যা মামলার ব্যাপার সরকারের আরও কঠোর হওয়া প্রয়োজন এবং জামিনের ব্যপারে সরকারের ও আদালতে সুবিবেচনা দেওয়া প্রয়োজন।

তথাপি ধর্ষণ প্রতিরোধে, সঠিক সামাজিক শিক্ষা ও সঠিক যৌন শিক্ষা প্রয়োজন। বিয়ের আইন ও তালাকের আইন সহজ করা প্রয়োজন। 

 

ধর্ষণ একটি ঘৃন্যতম অপরাধ, ধর্ষণের নানা রূপ মানুষকে পশুর থেকেও অধম করেছে। তাই আমাদের রয়েছে শক্ত আইন কিন্তু আইন না জানা, সময়মত যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ না করা ইত্যাদি কারণে ধর্ষণ প্রমাণ করা কিছু সময় কষ্টকর হয়ে যায় অন্যদিকে কিছু সময় মানুষ ধর্ষণের এই আইনকে অপব্যবহার করছে এবং নিজেদের উদ্দেশ্য পূরণের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে। তাই ধর্ষণকে প্রতিহত করতে আমাদের সকল কিছু করতে হবে একজন ধর্ষিতার জন্য আইনকে আরও সুষ্ঠ ও দ্রুত করতে হবে অন্যদিকে আইনের যেন অপব্যবহার না হয় সেই দিকেও লক্ষ রাখতে হবে আর তবেই আমরা সঠিক বিচার নিশ্চিত করতে পারবো।

বন্ধুদের জানান

ল হেল্প বিডি আইনের আলো ছড়িয়ে দেয়ার জন্য সাধারণ ভাবে আইন নিয়ে আলোচনা করে। আইনের আশ্রয়ে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য একজন আইনজীবীর পর্যাপ্ত গবেষণা ও কৌশল প্রয়োগ করেন যার ফলে তা সাধারণ আইনের ব্যতিক্রম হতে পারে, আমাদের সাধারণ লেখা এবং সাধারণ সাহায্য কোন আইনজীবীর বিকল্প নয়। প্রয়োজনে একজন বিজ্ঞ আইনজীবীর সাথে যোগাযোগ করুন অথবা আমাদের প্রফেশনাল সাহায্য নিতে চাইলে নিচের (বাঁয়ে) গোল নীল বাটনে ক্লিক করে আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন বা ই-মেইল করুন এই ঠিকানায়: LawHelpBD@gmail.com

Rayhanul Islam

রায়হানুল ইসলাম বর্তমানে আইন পেশায় নিয়জিত আছেন, এছাড়াও তিনি লেখালেখি করেন এবং ল হেল্প বিডির সম্পাদক। তথ্য ও প্রযুক্তি, মনোবিজ্ঞান এবং দর্শনে তার বিশেষ আগ্রহ রয়েছে। প্রয়োজনে: rayhan@lawhelpbd.com more at lawhelpbd.com/rayhanul-islam

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: দু:খিত এই লেখাটির মেধাসত্ত্ব সংরক্ষিত !!