বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষণ! আইন কি বলে?

ধর্ষণের অভিযোগে আজকাল এক নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে, যার নাম বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষণ। এই বিষয়টি নিয়ে একাধিক লেখায় উল্লেখ করার পরও বিষয়টি বার বার সামনে চলে আসায় শুধু এই বিষয়ে একটি অভিন্ন রচনার প্রয়োজন বোধ করছি।

বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষণ বুঝতে হলে আগে আমাদের দুটি বিষয় ভাল করে বুঝতে হবে, এক. ধর্ষণ আর দুই, প্রলোভন এবং তারপর তা সাধারণ ও আইনি দৃষ্টিকোণ থেকে দেখতে হবে এবং সর্বোপরি আইনের ব্যাখ্যা ও কেসলয়ের মাধ্যমে তার ভিত্তি শক্ত করতে হবে।

ধর্ষণ

সংক্ষিপ্ত ভাবে উল্লেখ করতে হলে বলা যায় দণ্ডবিধির ৩৭৫ ধারা অনুসারে ধর্ষণ হবে নিচের ৫ টি ঘটনা ঘটলে।

  • প্রথমত:- স্ত্রীলোকটির ইচ্ছার বিরুদ্ধে । অথবা, 
  • দ্বিতীয়ত:- স্ত্রীলোকটির সম্মতি ব্যতিরেকে। অথবা, 
  • তৃতীয়ত:- স্ত্রীলোকটির সম্মতিক্রমেই, যেক্ষেত্রে মৃত্যু বা জখমের ভয় প্রদর্শন করে স্ত্রীলোকটির সম্মতি আদায় করা হলে। অথবা
  • চতুর্থত- স্ত্রীলোকটির সম্মতিক্রমেই, যেক্ষেত্রে পুরুষটি জানে যে, সে স্ত্রীলোকটির স্বামী নয়, এবং পুরুষটি ইহার জানে যে, স্ত্রীলোকটি তাকে এমন অপর একজন পুরুষ বলে ভুল করেছে, যে পুরুষটির সাথে সে আইন সম্মত ভাবে বিবাহ হয়েছে বা বিবাহিত বলে বিশ্বাস করে । অথবা,
  • পঞ্চমত:- স্ত্রীলোকটির সম্মতিক্রমে অথবা সম্মতি ব্যতিরেকে, যদি স্ত্রীলোকটির বয়স চৌদ্দ বৎসরের কম হয়।

এখানে উল্লেখ্য যে, যৌনাঙ্গ অনুপ্রবেশ হলে তা যৌন সহবাস অনুষ্ঠানের জন্য যথেষ্ট বিবেচিত হবে এবং তা ধর্ষণ বলে বিবেচিত হবে।

প্রসঙ্গত, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ (বিশেষ আইনে) ধর্ষণে সাজা কি হবে তা বলা থাকলেও ধর্ষণে সংজ্ঞায়নের ব্যাপারে দণ্ডবিধির ৩৭৫ ধারাতেই রেফার করা হয়েছে তাই সংজ্ঞায়নের জন্য দণ্ডবিধির ৩৭৫ ধারাই যথেষ্ট। ধর্ষণ আইন সম্পর্কে আরও সবিস্তারে জানার জন্য যেমন, কিভাবে ধর্ষণ প্রতিরোধ করবেন, কেউ ধর্ষিত হলে কি করবেন বা কি করবেন না, আদালতের বাস্তবতা ইত্যাদি জানার জন্য একবার হলেও এই লিংক থেকে ঘুরে আসুন: ধর্ষণ কি? প্রতিকার ও বাস্তবতা

এখানে আইনের সরল ভাষায় ধর্ষণের সংজ্ঞায়নে প্রলোভন বিষয়ে বা বিয়ের প্রলোভন বিষয়ে কোন কথা বলা হয় নি। তাই সংজ্ঞায়ন অনুসারে বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষণ বিষয়টি ধোপে টিকে না। অর্থাৎ ধর্ষণ বলে আইনের চোখে ধরা দেয় না।

এই ধারা অনুসারে দুটি বিষয় খুব গুরুত্বপূর্ন এক. সম্মতি ও দুই. সম্মতি প্রদানের বয়স। তাই যেখানে একজন ১৪ বছর বা তার বেশী বয়সী বা প্রাপ্ত বয়স্ক একজন নারী পূর্ণ জ্ঞানে সম্মতি জ্ঞাপন করে সেখানে ধর্ষণের প্রশ্ন আসে না। কিন্তু যদি এমন হয় যে নারী সুস্থ মস্তিষ্কে নেই বা তাকে কোন মাদক দিয়ে বা অন্য কোন ভাবে তার সম্মতি নেয়া হয়েছে বা তাকে ব্লাকমেইল করা হয়েছে সেক্ষেত্রে ধর্ষণ হতে পারে। আবার কোন নারী যদি সরল বিশ্বাসে কারো উপর নির্ভর করে এবং সে ফায়দা নেয় তবে সেটাও ধর্ষণ হতে পারে।

 

বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষণ

বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষণ

সম্মতি ও শারীরিক সম্পর্ক

প্রত্যেক পূর্ণ বয়স্ক মানুষের তার ব্যক্তিগত জীবনে যে কোন সিদ্ধান্ত নেয়ার অধিকার কাছে। সে চাইলেই কারো সাথে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করতে পারে এবং আইনের চোখে এই সম্পর্ক স্থাপনের ফলাফল সে জেনে বুঝেই সম্পর্ক করেছে বলে ধরে নেওয়া হয়। স্বাভাবিক ভাবেই আদালত ধরে নেবে যে একজন সুস্থ মানুষ একটি সম্পর্ক, তার ফলাফল ও তার ঝুঁকি সম্পর্কে সজাগ থাকবে। এখন সে যদি সব বুঝে শুনে আগায় তখন সে পরবর্তী তে এটা বলতে পারে না যে আমি তখন বিষয়টি বুঝিনি বা আমি ভুল করেছিলাম বা আমাকে কোন বিষয় নিয়ে প্রলুব্ধ করা হয়েছিল।

পক্ষান্তরে কেউ যদি প্রলুব্ধ হয়ে বা লোভে পরে কোন কাজ করে করে যেখানে অপর পক্ষ কোন দোষ প্রতারণা করেনি সেখানে সেই ভুলে মাসুল সেই ভুল করা মানুষটাকেই বইতে হবে। আর কোন দোষ বা প্রতারণা করলে তার শাস্তি তাকে পেতে হবে কিন্তু তাই বলে প্রতারণা বা অন্য কোন দোষকে ধর্ষণের নামে অভিহিত করা যাবে না।

অন্যদিকে যদি ধর্ষণ না হয়ে সুধু প্রলোভন বা প্ররোচনার দায়ে অভিযুক্ত করতে চায় তবে এটা প্রমাণ করতে হবে যে প্ররোচনা এমন ছিল যে সে সময় সে যে প্ররোচিত হচ্ছে সেটা বুঝতে পারে নি। আর কেউ যদি প্ররোচিত  হয়ে বুঝতে পেরেও প্ররোচিত হয়, তখন সে ইচ্ছে করেই প্ররোচিত হয়েছে বা নিজে লাভের জন্য (ইস্যু তৈরির জন্য) প্ররোচিত হয়েছে বলে ধরা হবে এবং সে আইনগত ভাবে কোন প্রতিকার পাবে না।

বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষণ

এখন বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষণ বিষয়টি সামগ্রিক ভাবে দেখতে গেলে প্রশ্ন চলে আসে কি বিষয়ে প্রলোভন? উত্তর হচ্ছে, বিয়ে নিয়ে প্রলোভন।

এখন যদি আমরা প্রলোভন শব্দটিকে বিশ্লেষণ করি তাহলে দেখতে পাই প্রলোভন হচ্ছে কাউকে প্রলুব্ধ করা বা কারো লোভ বা আকাঙ্ক্ষা তৈরি করা। অন্যদিকে যে প্রলুব্ধ হয় তাকে আমরা লোভী বলে ধরে নেই। এবং কেউ লোভে পরে কোন কিছু করলে বা রিস্ক নিলে বা অবাস্তব আশা করলে বা লোভে পরে যথাযথ চিন্তা ভাবনা না করে কাজ করলে তাকে সেই কাজের দায় নিতে হয়। আইন কারো ব্যক্তিগত লোভের জন্য তার নিজের ক্ষতি হলে তাকে কোন প্রতিকার প্রদান করে না।

প্রশ্ন উঠতে পারে মুসলিম বিয়ে তো দেওয়ানী চুক্তি তবে কি এই প্রলুব্ধ করাটি সম্মত হওয়া বা চুক্তি হতে পারে। বা এ ক্ষেত্রে ধর্ষণ না হয়ে কি চুক্তি ভঙ্গ হতে পারে? উত্তর হচ্ছে না। কারণ বিয়ের ব্যাপারে এমন কোন চুক্তি অনুমোদিত না। আর তারচেয়ে বড় কথা শুধুমাত্র কোন বিষয়ে কথা দিলই তা চুক্তিতে রূপান্তরিত হয় না।

যাই হোক মূল প্রসঙ্গে ফিরে আসি, “বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষণ”

এখন বিষয়টি বিশ্লেষণ করলে এটাই দাড়ায় যে,

একজন লোক  একজন স্ত্রী লোককে এই বলে প্রলুব্ধ করেছে যে স্ত্রী লোকটি তার সাথে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করলে সে তাকে ভবিষ্যতে বিয়ে করবে এবং স্ত্রী লোকটিও তার এই প্রস্তাবে বুঝে শুনে এই শর্তে রাজি হয়ে তার সাথে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেছে। 

অতএব, স্ত্রী লোকটি উদ্দেশ্য প্রণোদিত ভাবে এবং বুঝে শুনে সম্মতি প্রদান করেছেন বলে ধরে নেওয়া যায়। 

সুতরাং যখন একজন ব্যক্তি উদ্দেশ্য প্রণোদিত ভাবে, নিজের লাভের জন্য বা বিষয়টাকে ভবিষ্যতে ব্যবহারের জন্য কোন কাজ করেন তখন এটা বলা যায় না যে সে বিষয়টি আগে বোঝেন নি বা তাকে প্রলুব্ধ করে ভাল মন্দ বোঝার ক্ষমতা লোপ করানো হয়েছিল।

অন্যদিকে আইনে প্রলুব্ধ হওয়া কোন ডিফেন্স না বরং এটা কোন ব্যক্তির হীনমন্যতা, তার লোভ ও লোভের ফলে যে কোন কিছু করতে পারার ইচ্ছাকে প্রকাশ করায়। এবং সে যে যথেষ্ট ভাল ব্যক্তি নয় তা আংশিক ভাবে প্রমাণ করে। আবার একই কারণে ঐ নারীকে সুকৌশলে কোন ব্যক্তিকে ফাঁসানোর অভিযোগে অভিযুক্ত করা যেতে পারে এবং মামলাটি প্রাথমিক ভাবে মিথ্যা বলে প্রতীয়মান হয়।

এটা যখন প্রমাণিত যে, এখানে সম্মতি ছিল তখন ধর্ষণের প্রশ্নটা অবান্তর।

আদালতের সিদ্ধান্ত

আইন যেহেতু শুধু সরল রেখায় চলে না তাই আমাদের আইনে তুলনামূলক বিশ্লেষণ ও কেইস ল ভিত্তিক গবেষণাও করা জরুরী।

চলুন দেখি আদালত ধর্ষণ ও সম্মতির ব্যাপারে কি বলেছে। (হুবহু অনুবাদিত নয়)

 

ধর্ষণ প্রমাণ করতে হলে ভুক্তভুগিকে প্রমাণ করতে হবে যে সে ধর্ষণ থেকে বাচার জন্য বাধা প্রদান করেছিল যেটা তার এজাহারে বা তার সাক্ষ্যে তুলে ধরতে হবে।

Sohel Rana (Md) Vs State 57 DLR 591 কেইসে।

 

যদি কেউ সুযোগের সদ্ব্যবহার ব্যবহার করে (বে আইনি ভাবে না) কোন সাবালক মেয়ের সাথে তার সম্মতিতে তার সাথে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করে তবে সেটা কোন আইনের আওতায় পরবে না। 

Kamal Hossain Vs. State 61 DLR 505

 

এই দুটি কেইস ল থেকে বোঝা যায় যে সম্মতি থাকলে তা কখনো ধর্ষণ বলে গণ্য হবে না, কেউ যদি কাউকে কোন অবস্থার প্রেক্ষিতে (বে আইনি ভাবে নয় এমন) কোন নারীকে ভালবাসা দেখিয়ে বা অন্য কোন ভাবে তার সম্মতি নিয়ে তার সাথে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করে তবে তা ধর্ষণ হবে না। অন্যদিকে, যদি কেউ ধর্ষণ দাবি করে তবে তাকে অবশ্যই প্রমাণ করতে হবে যে সে বাধা প্রদান করেছিল।

তাছাড়া এটাও মনে রাখতে হবে যেখানে ভিক্টিমের বক্তব্য ছাড়া কোন সরাসরি প্রমাণ নেই সেখানে আদালত পক্ষগনের বয়স, প্রতিহত করার চেষ্টা, শারীরের চিহ্ন,  মেয়ের মানুষিক ও শারীরিক অবস্থা, মেয়েটির চরিত্র ইত্যাদি দেখবেন। শুধু অভিযোগ বা একজনের সাক্ষ্যে সাধারণত বিচার বা ধর্ষণ প্রমাণ হয় না।

 

আবার,

এক কেইস দেখা যায়, এক মেয়েকে এক ছেলে ভবিষ্যতে বিয়ে করবে বলে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করে এবং গর্ভ ধারণ করে যদিও মেয়েটি জানতো যে তাদের গোত্র ভিন্ন হওয়া কারণে সেটি অসম্ভব। আদালত বলে এখানে কোন ভুল উপস্থাপন হয় নি এবং ধর্ষণ হয় নি। 

Uday v. State of kamataka AIR 2003 SC 1639

 

অন্য একটি মামলা আমরা পাই। মেয়ের মা হাতে নাতে অভিযুক্তকে Sexual intercourse করা সময় ধরে কিন্তু আদালতে মেয়ে বাধা প্রদান করেছে বলে কোন প্রমাণ না পাওয়া অভিযুক্ত খালাস পায়।

Biram Soren V. State of West Bengal 1992 Cr LJ 1666 (Cal)

 

আরও একটি মামলায় দেখা যায়, যেখানে স্ত্রী লোকটি বিয়ের শর্তে বুঝে শুনে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করে এবং সেই বিষয়টা সে গর্ভধারণ করার আগ পর্যন্ত সবার কাছ থেকে গোপন রাখে। পরবর্তীতে অভিযোগ করলে আদালত এই মত দেন যে অভিযুক্তকে ধর্ষণে সাজা প্রদান করা যথাযথ নয়।

Jintu Das V. State of Assam, 2003 Cri LJ 1411 (Gau)

এ বিষয়ে কিছুদিন আগে উড়িষ্যা হাইর্কোট সরাসরি এই মত প্রদান করেছেন যে, বিয়ের মিথ্যে প্রলোভন দেখিয়ে কারো সাথে যৌন সম্পর্ক করলেই সেটা ধর্ষণ হবে না। (লিংক)

অন্যদিকে ভারতের সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট ভাষায় বলে দিয়েছে, লিভইন বা একত্রে বসবাস করে এবং যৌন সম্পর্ক হলে পরে বিয়ে না করলে সেই বিষয়ে ধর্ষণের অভিযোগ করা যাবে না। (লিংক)

এই দুটি উদাহরণ ভারতের হলেও আমাদের মুল আইন, দন্ডবিধি এক হওয়ার কারণে ও আমাদের আইনের গতি প্রকৃতি এক হওয়ার কারণে আমরা ভারতের অনেক রায় গুরুত্বের সাথে নেই ও অনুসরণ করি। তাই এই দুটি রায়ও আমাদের জন্য অনুসরণ যোগ্য এবং বাংলাদেশে এই রায়ের আলোকে আমাদের বিচারকরা রায় প্রদান করতে পারেন।

 

অতএব, উপরের আলোচনা, বিশ্লেষণ ও কেইস ল থেকে আমার বলতে পারি যে, “বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষণ” বিষয়টি আইন সমর্থন করে না।

 

আইনের প্রয়োগ

এ সমাজে ক্ষমতা থাকলেই আইনের অপপ্রয়োগ করা যায়, আবার অনেক সময় এই ক্ষমতা প্রদান করা হয় আইন দ্বারাই! যেমন ধরুন নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের অধিকাংশ ধারাই অমলযোগ্য (ওয়ারেন্ট ছাড়াই তাৎক্ষনিক এরেস্ট করা যায়) এবং জামিন অযোগ্য এর ফলে সত্যতা যাই হোক অভিযোগে সঙ্গে সঙ্গে কিছু মানুষ বিপদে পরে যায়। এ কথা সত্য এই আইনি নারীদের সবচেয় বড় সহায় তবে তাদের সহায় করতে গিয়ে অনেক লোভী, স্বার্থপর ও চালবাজ মানুষের হাতে এক অদ্ভুৎ ক্ষমতা রাষ্ট্র তুলে দিয়েছে এবং কিছু মানুষ এর অপব্যবহার করছে ও সুযোগ নিচ্ছে।

তবে মনে রাখতে হবে, শুধু শাস্তি আর আইন করলেই হবে না, সেই আইনটি যথাযথ ভাবে প্রয়োগের লক্ষে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীকে ট্রেইন করতে হবে, আদালতকে ট্রেইন করতে হবে, জন সাধারণকে আইন ও আইনের প্রয়োগ জানাতে হবে। আইনের অপব্যবহার রোধ করতে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে এবং সামগ্রিক ভাবে সমাজকে শিক্ষিত করতে হবে।

অন্যদিকে আইন ব্যবহার অবিবেচকের মত হলে, সমাজের প্রকৃত ভুক্তভোগীরা তাদের সম্মান থেকে বঞ্চিত হবে, আদালতের সময় বেশী লাগবে তথা সরকার ও প্রশাসনের উপর চাপ পড়বে।

তা ছাড়া কোন আইনের প্রয়োগের ফলের সাথে যেই ভিত্তির উপর সেই আইন দাড়িয়ে সেই ভিত্তিতে অন্য পক্ষকে দাড় করিয়ে সেটা ন্যায় বিচার হয় কিনা তা বিবেচনা করতে হবে। যেমন ধরুন. যেমন ধরুন যদি মেয়েরা বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষণ প্রসঙ্গটি আনে এবং তা আইনে স্বীকৃত হয় তখন প্রসঙ্গ আসে মেয়েরা যদি কোন ছেলের সাথে বিয়ের প্রলোভনে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করে এবং পরে বিয়ে না করে তবে কি হবে? একই ভাবে বিয়ে করবে কথা দিয়ে যদি কারো কাছ থেকে দিনের পর দিন অর্থনৈতিক ও অন্যান্য সাহায্য নেয় তবে কি হবে? এই বিষয়গুলোর যথাযথ এবং তুলনা মূলক আইনি ব্যখ্যা না আসা পর্যন্ত “বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষণ” বিষয়টি নিয়ে কোন আপনি প্রতিকার দেওয়া যথাযথ হবে না।

 

বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষণ এর উৎপত্তি

যদিও দেখা যায় বিজ্ঞ আইনজীবীরা অনেক সময়েই এই ধরনে শব্দ ব্যবহার করে থাকেন। তারা-ই জানেন তারা কেন এটা ব্যবহার করেন, আমি বিশ্বাস করি অবশ্যই তাকের কোন যথাযথ কারণ থেকে থাকবে। 

তবে আমার মতে বিষয়টা ছোট বেলার গরু রচনা পড়ে গিয়ে নদী রচনা আসার মত যেখানে ছাত্র নদী দিয়ে রচনা সুরু করে কিন্তু এক প্যারা পরেই গরুর বর্ণনা দিতে থাকে। এখানে আইনজ্ঞরা যদিও বলেন বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষণ আদতে তারা আসামীকে ধর্ষণের দায়ে অভিযুক্ত করাতে চান ও হয়রানি করতে চান কিন্তু সরাসরি কোন কিছু না পেয়ে এই ধরনের শব্দ বা শব্দ গুচ্ছ ব্যবহার করেন। অন্যদিকে আদালতও এই ধরনের কেইস গ্রহণ করেন এবং পরিচালনা করেন। তবে কেন করেন তা তারাই ভাল জানেন এবং এমন বিষয়ে কাউকে সাজা দিয়ে কোন পূর্ণ রায় বেড়িয়েছে বলে আমার ঠিক জানা নেই। [আপনাদের কারও জানা থাকলে দয়া করে শেয়ার করবেন]

আশা করি এই বিষয়ে উচ্চ আদালত একটি সুস্পষ্ট নির্দেশনা দেবেন এবং যার ফলে এক দিকে আইনের অপপ্রয়োগ কমবে, হয়রানি কমবে অন্যদিকে ভুক্তভোগীরা সহজে প্রতিকার পাবে।

 

বন্ধুদের জানান

ল হেল্প বিডি আইনের আলো ছড়িয়ে দেয়ার জন্য সাধারণ ভাবে আইন নিয়ে আলোচনা করে। আইনের আশ্রয়ে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য একজন আইনজীবীর পর্যাপ্ত গবেষণা ও কৌশল প্রয়োগ করেন যার ফলে তা সাধারণ আইনের ব্যতিক্রম হতে পারে, আমাদের সাধারণ লেখা এবং সাধারণ সাহায্য কোন আইনজীবীর বিকল্প নয়। প্রয়োজনে একজন বিজ্ঞ আইনজীবীর সাথে যোগাযোগ করুন অথবা আমাদের প্রফেশনাল সাহায্য নিতে চাইলে নিচের (বাঁয়ে) গোল নীল বাটনে ক্লিক করে আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন বা ই-মেইল করুন এই ঠিকানায়: LawHelpBD@gmail.com

Rayhanul Islam

রায়হানুল ইসলাম বর্তমানে আইন পেশায় নিয়জিত আছেন, এছাড়াও তিনি লেখালেখি করেন এবং ল হেল্প বিডির সম্পাদক। তথ্য ও প্রযুক্তি, মনোবিজ্ঞান এবং দর্শনে তার বিশেষ আগ্রহ রয়েছে। প্রয়োজনে: rayhan@lawhelpbd.com more at lawhelpbd.com/rayhanul-islam

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: দু:খিত এই লেখাটির মেধাসত্ত্ব সংরক্ষিত !!