বাদী বা বিবাদীর উপস্থিতি এবং অনুপস্থিতির ফল – দে. কা. ১১

দেওয়ানি মোকদ্দমায় বাদী বিবাদীর প্রতি এবং অন্যান্য পক্ষের প্রতি [থাকলে] সমন দিয়ে আদালতে হাজির হয়ে তাদের বক্তব্য পেশ করতে বলে কিন্তু দেখা যায় অনেক সময় বাদী বা বিবাদী নানান কারনে আদালতে হাজির হতে পারেরন না আবার অনেকে ইচ্ছা করে হাজির হন না। আর অনেকেই ভাবেন হাজির না হলেই বা কি হবে? এমন অবস্থায় আদালত কি সিদ্ধান্ত দেবেন তা দেওয়ানী কার্যবিধির আদেশ ৯ এর বিধিতে উল্লেখ করা আছে। 

এছাড়াও যদি আদালত কোন পক্ষের বিরুদ্ধে কোন আদেশ বা ডিক্রি দেয় তবে কি করতে হবে এবং কিভাবে করতে হবে তাও এই আদেশে বলা আছে।

চলুন তাহলে এ সম্পর্কিত কিছু বিষয় একটু আলোকপাত করা যাক।

চলুন কিছু কয়টা বিষয় সূত্রের মাধ্যমে মনে রাখার চেষ্টা করি;

১. বাদির দোষ ত্রুটিতে = খারিজ
২. বিবাদীর দোষ ত্রুটিতে = এক পাক্ষিক ডিক্রি
৩. দুই পক্ষই যদি একসাথে কোন দোষ ত্রুটি করে থাকে তবে = খারিজ

মনে রাখি এই অনুপস্থিতিকে অনেক সময় গড়-হাজিরা বলেও ডাকা হয়

আদেশ ৯ – বাদী বা বিবাদীর উপস্থিতি এবং অনুপস্থিতির ফল [Appearance and non appearance of parties]

সাধারন কিছু নিয়ম

বিধি, ১। সমনের তারিখে বিবাদী নিজে অথবা তার উকিলের মাধ্যমে হাজির হয়ে জাবাব দিতে হবে।

বিধি, ২। ডাক মাসুল বা পোষ্টাল খরচ না দিলে এটা বাদীর ত্রুটি তাই আদালতে মামলা খারিজের আদেশ দিতে পারে।

বিধি, ৩। বাদী বা বিবাদী কোন পক্ষই শুনানির দিনে হাজির না থাকলে মামলা খারিজ হয়ে যাবে।

বিধি, ৪ । বিধি ২ ও ৩ এর কারনে যদি মামলা খারিজ হয়ে যায় তবে তার প্রতিকার:

বাদী নতুন করে মামলা করতে পারবে [তবে তা লিমিটেশন আইনের ৫ ধারা মেনে]

      • খারিজ আদেশ রদ করার বা পূর্নবহাল কারার আবেদন করতে পারবে [Application/ Miscellaneous case]
      • ৩০ দিনের মধ্যে এই আবেদন করতে হবে
      • যথাযথ কারণ দেখাতে হবে [কেন কোর্ট ফী বা ডাক মাসুল ঠিক করে দেন নি]

সামন জারি না হয়ে ফেরত আসলে

বিধি, ৫ । সামন জারি না হয়ে ফেরত আসলে

  • যথাযথ ভাবে সামন জারি না করা হলে [Not duly served] ২য় সামন দিতে হয়।
  • ২য় সামন ১ মাসের মধ্যে দিতে হবে, ব্যর্থ হলে মামলা খারিজ হয়ে যাবে।
    • প্রতিকার – তামাদি আইন মেনে নতুন মামলা দায়ের করতে পারবেন।

একতরফা ডিক্রি

বিধি, ৬ । যখন বাদী উপস্থিত এবং বিবাদী অনুপস্থিত থাকলে।

  • হেয়রিংয়ের সময় যখন বাদী উপস্থিত এবং বিবাদী অনুপস্থিত তখন আদালত আগে দেখবেন সমন ঠিকমতো দেওয়া হয়েছে কিনা। দেওয়া হলে একতরফা ডিক্রি দিয়ে দেবেন।
  • সামন ঠিক মত না দেওয়া হলে ২য় সমান দিবেন।
  • সমন যদি দেওয়া হয় কিন্তু যথাযথ সময় না দেওয়া হবে তবে আদালতে সেই দিনের জন্য হেয়ারিং স্থগিত রাখবেন এবং পরে আরেকটি তারিখ দেওয়া হবে।

বাদী বা বিবাদীর উপস্থিতি এবং অনুপস্থিতির ফল 

বিধি, ৭। যদি বিবাদীর বিরুদ্ধে একতরফা রায় হওয়ার পরে আসে কিন্তু মামলার প্রক্রিয়া তখনো চলমান এবং যথাযথ কারন দেখাতে সমর্থ হয়, তখন আদালত তাকে কোন খরচ দিতে আদেশ দিয়ে বা খরচ ছড়াই তার জবাব শুনতে অন্য একদিন নির্ধারণ করতে পারেন।

খারিজ

বিধি, ৮ । যখন বাদী অনুপস্থিত কিন্তু বিবাদী হাজির

  • হেয়রিংয়ের সময় বাদী অনুপস্থিত কিন্তু বিবাদী হাজির তখন আদালত মামলাটি খারিজের আদেশ দেবেন।

কিন্তু যদি, – 

      • বিবাদী আর্জির বিষয় পূর্ণ ভাবে স্বীকার করে তবে ডিক্রি হবে।
      • বিবাদী আর্জিরি বিষয় আংশিক স্বীকার কবে তবে আংশিক ডিক্রি হবে।

খারিজের বিরুদ্ধে প্রতিকার

বিধি, ৯ । বিধি, ৮ এর অধীনে মামলা খারিজ হলে; –

দুটি পদ্ধতি অনুসরণ করতে পারবে।

১ম পদ্ধতী; [সাধারণ]
বিধি ৪ এর মত করে কারণ দেখিয়ে মামলা খারিজ আদেশ রদ করার জন্য বাদী দরখাস্ত করতে পারবে। অথবা

বিধি, ৯(এ)। দ্রুত ও কারণ না দেখিয়ে।

২য় পদ্ধতি; দ্রুত

  • – এফিডেভিট সহ আবেদন করতে হবে
  • – ৩০ দিনের মধ্যে 
  • – তামাদি হলে, তামাদি আইনের ৫ ধারা অনুসরণ করতে হবে
  • – ১০০০ টাকা পর্যন্ত খরচ দিতে হতে পারে।
  • – যথাযথ কারণ দেখানোর প্রয়োজন হবে না।
  • – অপর পক্ষকে নোটিশ দিতে হবে।

 # এ প্রক্রিয়া একবারের বেশি ব্যবহার করা যাবে না।

বিবাদীর একতরফা ডিক্রির বিরুদ্ধে প্রতিকার।

বিধি, ১৩। বিবাদী ডিক্রি প্রদানকারী আদালতে একতরফা ডিক্রি রদ করার জন্য যথাযথ কারন দেখিয়ে দরখাস্ত করবে (ছানি মামলা) অথবা,

বিধি, ১৩ এ। যথাযথ কারণ দেখিয়েও নিচের শর্ত মেনে দরখাস্ত করতে পারে

  • – এফিডেভিট সহ আবেদন করতে হবে
    – ৩০ দিনে মধ্যে
  • ৩০০০ টাকা পর্যন্ত খরচ দিতে হতে পারে।
  • – যথাযথ কারন দেখানো প্রয়োজন হবে না।
  • – অপর পক্ষকে নোটিশ দিতে হবে।

এ প্রক্রিয়া একবারের বেশি ব্যবহার করা যাবে না।

বিধি, ১৪। অন্য পক্ষকে না জানিয়ে কোন ডিক্রি সেট এসাইড করা যাবে না।

দেওয়ানী কার্যবিধির সব টিউটরিয়াল পেতে আমাদের বার কাউন্সিল পরীক্ষার প্রস্তুতি পাতায় গিয়ে ঘুরে আসুন।

ল হেল্প বিডি আইনের আলো ছড়িয়ে দেয়ার জন্য সাধারণ ভাবে আইন নিয়ে আলোচনা করে। আইনের আশ্রয়ে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য একজন আইনজীবীর পর্যাপ্ত গবেষণা ও কৌশল প্রয়োগ করেন যার ফলে তা সাধারণ আইনের ব্যতিক্রম হতে পারে, আমাদের সাধারণ লেখা এবং সাধারণ সাহায্য কোন আইনজীবীর বিকল্প নয়। প্রয়োজনে একজন বিজ্ঞ আইনজীবীর সাথে যোগাযোগ করুন অথবা আমাদের প্রফেশনাল সাহায্য নিতে চাইলে নিচের (বাঁয়ে) গোল নীল বাটনে ক্লিক করে আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন বা ই-মেইল করুন এই ঠিকানায়: LawHelpBD@gmail.com

Avatar

Rayhanul Islam

রায়হানুল ইসলাম বর্তমানে আইন পেশায় নিয়জিত আছেন, এছাড়াও তিনি লেখালেখি করেন এবং ল হেল্প বিডির সম্পাদক। তথ্য ও প্রযুক্তি, মনোবিজ্ঞান এবং দর্শনে তার বিশেষ আগ্রহ রয়েছে। প্রয়োজনে: rayhan@lawhelpbd.com more at lawhelpbd.com/rayhanul-islam

Leave a Reply

error: দু:খিত এই লেখাটির মেধাসত্ত্ব সংরক্ষিত !!