দেওয়ানী মোকদ্দমার পক্ষ ও মোকদ্দমা দায়ের – দে. কা. ০৬

কোন দেওয়ানী মোকদ্দমা করতে হলে প্রথমেই বাদী ও বিবাদী পক্ষ কারা হবে সেই বিষয়ে পরিষ্কার হতে হবে, তারপর প্রয়োজনীয় পক্ষ এবং উপযুক্ত পক্ষকেও তার সাথে সংযুক্ত করতে হবে। আবার কাদের একসাথে বাদী বা বিবাদী করা যাবে তাও বোঝা জরুরী,  তাই এই পক্ষগন কে ও কারা এসব বিষয়ে মোকদ্দমা করার আগেই বুঝতে হবে ও সেমতে ব্যবস্থা নিতে হবে। তাই আপনি যদি মামলা করার চিন্তা করে থাকেন তবে পক্ষগনের বিষয়টি বোঝার কোন বিকল্প নেই।

পক্ষগনে বিষয়টি বোঝার পর একজন আইনজীবী নিয়োগ দিতে হবে যিনি মামলাটি পরিচালনা করবেন। আইনজীবী মামলার বিষয়টি বুঝে সন্তুষ্ট হয়ে সকল পক্ষ, আইন ও ঘটনা বিবেচনায় নিয়ে প্রয়োজনে উকিল নোটিশ পাঠাবেন বা তার প্রয়োজন না হলে কোর্ট ফি দিয়ে আর্জি দাখিল করবেন এবং এই আর্জির মাধ্যমে মোকদ্দমাটি আদালতের বিচারের জন্য পেশ হবে।

এইসব বিষয়গুলো দেওয়ানী কার্যবিধির বিভিন্ন ধারা, আদেশ ও বিধিতে বিস্তারিত উল্লেখ করা হয়েছে যার চুম্বক কিছু অংশ নিচে তুল ধরা হোল।

মামলার পক্ষ – আদেশ ১

এই আদেশে মামলার  বিভিন্ন পক্ষ নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে।

বিধি, ১ । একাধিক ব্যক্তিকে একটি মামলায় বাদী [একই পক্ষ] হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা যাবে যদি এমন হয় যে,
– ঐ ব্যক্তিরা যদি কোন ব্যক্তি/ ব্যক্তিগতের বিরুদ্ধে [প্রত্যেকে] আলাদা মামলা করতো তবে – সেই মামলার বিচার্য বিষয় ও ফলাফল একই হোত।

বিধি, ৩ । [বিধি, ১ এর মতই তবে ঠিক উল্টে]
একাধিক ব্যক্তিকে একটি মামলায় বিবাদী [একই পক্ষ] হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা যাবে যদি এমন হয় যে,
– ঐ ব্যক্তিরা যদি কোন ব্যক্তি/ ব্যক্তিগতের বিরুদ্ধে [প্রত্যেকে] আলাদা মামলা করতো তবে – সেই মামলার বিচার্য বিষয় ও ফলাফল একই হোত।

বিধি, ৮ । কোন ব্যক্তি আদালতের অনুমতি নিয়ে বাদীগন বা বিবাদীগনের প্রতিনিধি হয়ে মামলা পরিচালনা করতে পারবেন।
– এবং সে নিজেও মামলার পক্ষ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হতে পারবেন।

প্রয়োজনীয় পক্ষ [Necessary party] ও  উপযুক্ত পক্ষ [Proper Party]

বিধি, ৯ ।

  • প্রয়োজনীয় পক্ষ [Necessary party] : যেই পক্ষ না থাকলে মামলা করা যায়ে না।
  • উপযুক্ত পক্ষ [Proper Party] : যাকে ছাড়া মামলা করা যায় কিন্তু পূর্ণ রায় দেওয়া যায় না, পূর্ণ রায় দেওয়ার আগে তাকে পক্ষ অন্তর্ভুক্ত করতে হয়।
  • উপরের এই দুই পক্ষ অনুপস্থিত থাকলে সেটা হয় Non Joinder of Parties আর এই দুই পক্ষ ভুল থাকলে সেটা হয় Mis Joinder of Parties [আদেশ ১, বিধি ৯]

বিধি, ১০ । ভুল বাদী থাকলে তা পরিবর্তন:
১. ভুল বাদী হলে আদালত যে কোন সময় তা পরিবর্তন বা সংশোধন করতে দেবে।
২. অন্যায় ভাবে পক্ষ ভুক্ত হলে আদালত যে কোন সময় তা বাদ দিতে পারে।
৩. কোন অপারগ ব্যক্তিকে বাদী করা যাবে না।
৪. বিবাদী সংযুক্ত হলে আর্জি সংশোধন করতে হবে।

Non Joinder of Parties ও  Mis Joinder of Parties

বিধি, ১৩ । Non Joinder of Parties এবং Mis Joinder of Parties বিষয়ে অভিযোগ
যত তাড়াতাড়ি সম্ভব জানাতে হবে, পরে জানালে হবে না।

দেওয়ানী মোকদ্দমার পক্ষ ও মোকদ্দমা দায়ের

দেওয়ানী মোকদ্দমার পক্ষ ও মোকদ্দমা দায়ের

মামলা গঠন – আদেশ ২

এই আদেশে মামলা কিভাবে গঠিত হবে, কি থাকতে হবে তাই আলোচনা করা হয়েছে।

কজ অব একশন [Cause of Action]

বিধি, ১ ।
– মামলার গঠন এমন হতে হবে যেখানে বিরোধের বিষয়টি / কজ অব একশন [Cause of Action] পরিষ্কার বোঝা যায়।
– রিলিফ চাইতে হবে

কজ অব একশণ এর মানে হচ্ছে যে দিন থেকে বিরোধটি স্পষ্ট হয় এবং আইনত মামলা করার মত অবস্থা হয়। এই অবস্থাটি কবে কিভাবে হয়েছে তা পরিষ্কার করে আর্জিতে লিখতে হবে এবং আপনি আদালতের কাছে কি প্রতিকার চান তাও আদালতকে ঐ আর্জিতে জানাতে হবে।

বিধি, ২ । সমগ্র দাবি মামলার অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।
– কোন দাবি ছেড়ে দেওয়া যাবে না তাহলে পরে তা আর চাওয়া যাবে না।

উদাহরন:  ধরুন আপনি ১ টি গরু ও ১০ হাজার টাকা পান তাহলে দুটোই এক সাথে দাবি করতে হবে, পারে আবার দাবি করতে পারবে না।

আইনজীবী – আদেশ ৩

বিধি, ৪ । আইনজীবী নিয়োগ
পাওয়ার অব এটর্নির মাধ্যমে লিখিত ভাবে আইনজীবী নিয়োগ করতে হবে

মামলা দায়ের – আদেশ ৪ এবং ধারা ২৬

উপরের প্রক্রিয়া শেষ করার পর একটি মামলা আদালতের সেরেস্তায় দাখিল করতে হবে।

ধারা, ২৬ । প্রত্যেক টি দেওয়ানি মামলা দাখিল করতে হয় আর্জি দাখিলে মাধ্যমে।

 

বিধি (১+২)
– আদালতে আর্জি দাখিল করতে হবে, সেটা একটি রেজিস্টারে উঠবে
– যতজন বিবাদী থাকে ততগুলো আর্জির অবিকল নকল সহ সকল বিবাদীর নিকট সমন জারি করতে হবে।
– সমন জারির জন্য বাদীকে নির্ধারিত খরচ প্রদান করতে হবে।

দেওয়ানী মোকদ্দমা বিষয়গুলো একনজরে দেখতে দেখুন: দেওয়ানী মোকদ্দমা কি, কেন ও এর ধাপ সমূহ

আশা করি এই লেখাটি আপনাদের দেওয়ানী মোকদ্দমার পক্ষদের বিষয়টি বুঝতে সাহায্য করবে।

বন্ধুদের জানান

ল হেল্প বিডি আইনের আলো ছড়িয়ে দেয়ার জন্য সাধারণ ভাবে আইন নিয়ে আলোচনা করে। আইনের আশ্রয়ে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য একজন আইনজীবীর পর্যাপ্ত গবেষণা ও কৌশল প্রয়োগ করেন যার ফলে তা সাধারণ আইনের ব্যতিক্রম হতে পারে, আমাদের লেখা এবং সাধারণ সাহায্য কোন আইনজীবীর বিকল্প নয়। প্রয়োজনে একজন বিজ্ঞ আইনজীবীর সাথে যোগাযোগ করুন।

আমাদের সেবা নিতে চাইলে ফর্ম, ই-মেইল lawhelpbd@gmail.com বা ফেসবুকের ম্যসেঞ্জারের মাধ্যমে আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন।

Rayhanul Islam

অ্যাডভোকেট রায়হানুল ইসলাম ল হেল্প বিডির প্রধান লেখক ও সম্পাদক। তার আইন পেশার পাশাপাশি তিনি আইনকে সহযে সবার মাঝে ছড়িয়ে দিতে কাজ করে যাচ্ছেন। তথ্য ও প্রযুক্তি, মনোবিজ্ঞান এবং দর্শনে তার বিশেষ আগ্রহ রয়েছে। প্রয়োজনে: rayhan@lawhelpbd.com more at lawhelpbd.com/rayhanul-islam

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: দু:খিত এই লেখাটির মেধাসত্ত্ব সংরক্ষিত !!