মামলা স্থগিতকরণ ও দোবারা দোষ – দে. কা. ০৪

দেওয়ানী মামলা আদালত গ্রহণ করা তথা প্রক্রিয়া শুরু করার আগে কিছু সাধারণ নিয়ম দেখে নেওয়া জরুরী। এখানে দেওয়ানী কার্যবিধির এমন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দুটি বিষয়;  ১। মামলা স্থগিতকরণ ও  ২।দোবারা দোষ  নিয়ে  আলোচনা করা হোল।

মামলা স্থগিতকরণ [Stay of Suits / Res-subjudice ]

যখন এক বিষয় নিয়ে একটি  মামলা থাকা অবস্থায় আরও এক বা একাধিক মামলা হয় তখন সেই নতুন মামলাটি স্থগিত হয়ে যাবে। দেওয়ানী আইনের এই বিষয়টিকে বলা হয় মামলা স্থগিতকরণ [Stay of Suits / Res-subjudice/ রেস সাব জুডিস] যা দেওয়ানী কার্যবিধির ১০ নং ধারায় উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে  মামলাটি স্থগিত হতে হলে কিছু শর্ত মানতে হবে, নিচে শর্ত গুলো দেয়া হোল।

মামলা স্থগিতকরণ ও দোবারা দোষ

মামলা স্থগিতকরণ ও দোবারা দোষ

মামলা স্থগিতকরণের জন্য শর্ত:

  • এই বিষয়ে একাধিক মামলা হতে হবে
  • পক্ষগন একই হতে হবে
  • মামলার বিচার্য বিষয় একই হতে হবে
  • বাংলাদেশের মধ্যে হতে হবে
  • একই ক্ষমতা সম্পন্ন আদালতে দুটি মামলা থাকেতে হবে
  • অন্তত একটি মামলা চলমান থাকতে হবে

দোবারা দোষ (Res-Judicata / রেস জুডিকাটা)

দোবারা দোষ নীতির সাথে মামলা স্থগিতকরণ নীতির মূল পার্থক্য মূলত একটা, আর সেটা হল মামলা স্থগিতকরণ নীতিতে একটি মামলা চলমান থাকা অবস্থায় থাকে আর তারপর একই বিষয়ে নতুন এক বা একাধিক মামলা হয়।  দোবারা দোষে উপরের (ধারা ১০) এর মত সকল বিষয় এক হবে তবে এখানকার বিষয়ের ভিন্নতা হবে এই যে প্রথমে করা মামলাটি নিষ্পত্তি হয়ে যাবে। এরপর একই বিষয়ে নতুন মামলা আসবে এবং তখন আদালত মামলাটির বিচারের জন্য গ্রহণ করবে না।

এক কথায় বলতে গেলে একটি মোকদ্দমা হয়ে তার বিচার হয়ে গেলে যদি আবারো সেই একই বিষয় ও একই পক্ষকে কেন্দ্র একই ভাবে করে আবার বিচার তা দোবার দোষে দোষী হবে। [একই কাজ অপ্রয়োজনে দুই বার করা]

দোবারা দোষকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়।

১. প্রত্যক্ষ রেসজুডিকাটা (Direct Res-judicata):

যেখানে ১ম মামলাটির এক পক্ষ কোন একটি বিষয় দাবি করে এবং আরেক পক্ষ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ ভাবে স্বীকার বা অস্বীকার করে এবং সেই বিষয়টি প্রথম মামলা চূড়ান্ত (settled) হয়ে যায়।

২. পরোক্ষ রেসজুডিকাটা (Constructive Res-judicata):

যেখানে ১ম মামলায় কোন এক পক্ষ কোন একটি বিষয়ে দাবি/ অভিযোগ দ্বায়ের করেন যা অপর পক্ষ সরাসরি ভাবে স্বীকার বা অস্বীকার করতে পারতো কিন্তু অপর পক্ষ তা না করে পরোক্ষ ভাবে বিষয়টি স্বীকার করে, এমন বিষয়ে আদালত ধরে নেবে বিষয়টি চূড়ান্ত হয়েছে তাই আর একই বিষয় নিয়ে বিচার নেবে না।

তবে এই দোবারা দোষের কিছু ব্যতিক্রম আছে যেমন;

দোবারা দোষের কিছু ব্যতিক্রম

  • জনস্বার্থে মামলা বা Public Interest Litigation
  • যেক্ষেত্রে পূর্ববর্তী আদেশটি পরবর্তী মামলার সময় কার্যকর নেই
  • মামলার রায় প্রতারনামূলক ভাবে প্রাপ্ত
  • যে ক্ষেত্রে পূর্বের মামলাটি গুনাগুণের কারণে নিষ্পত্তি হয় নাই বরং অনুপস্থিতি জনিত কারনে বা মামলাটি না চালানর কারণে খারিজ হয়।
  • মামলাটি পুনরায় দায়ের করার শর্তে তুলে নেওয়া হয়।

দেওয়ানী কার্যবিধিতে এমন আরো একটি ধারা আছে, ধারা ১২  যা মামলা করার ক্ষেত্রে বাধার কথা বলেছে।

ধারা, ১২; মামলা করায় বাধা

যখন বাদী নিজের দোষে কোন মামলা করার ক্ষমতা হারান। যেমন, বাদী যদি যথা সময়ে মামলা না করেন তখন তিনি আর মামলা করতে পারেনে না।


Res sub-judice & Res Judicata আরো বিস্তারিত দেখতে আমাদের ইংরেজী সাইটের বিস্তারিত লেখাটি দেখে আসতে পারেন ।

আমরা আপনাদের জন্য প্রতিনিয়ত নতুন নতুন আর্টিকেল দিয়ে যাচ্ছি; সহজেই আমাদের লেখাগুলো পেতে আমাদের নোটিফিকেশণ সিস্টেমটি এপ্রুভ করুন [ডানদিকে নিচের লাল বেল বাটনটি ক্লিক করুন] অথবা আমাদের ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে রাখুন।

 আরো দেখুন: বার কাউন্সিল পরীক্ষার প্রস্তুতি

বন্ধুদের জানান

ল হেল্প বিডি আইনের আলো ছড়িয়ে দেয়ার জন্য সাধারণ ভাবে আইন নিয়ে আলোচনা করে। আইনের আশ্রয়ে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য একজন আইনজীবীর পর্যাপ্ত গবেষণা ও কৌশল প্রয়োগ করেন যার ফলে তা সাধারণ আইনের ব্যতিক্রম হতে পারে, আমাদের লেখা এবং সাধারণ সাহায্য কোন আইনজীবীর বিকল্প নয়। প্রয়োজনে একজন বিজ্ঞ আইনজীবীর সাথে যোগাযোগ করুন।

আমাদের সেবা নিতে চাইলে ফর্ম, ই-মেইল lawhelpbd@gmail.com বা ফেসবুকের ম্যসেঞ্জারের মাধ্যমে আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন।

Rayhanul Islam

রায়হানুল ইসলাম বর্তমানে আইন পেশায় নিয়জিত আছেন, এছাড়াও তিনি লেখালেখি করেন এবং ল হেল্প বিডির সম্পাদক। তথ্য ও প্রযুক্তি, মনোবিজ্ঞান এবং দর্শনে তার বিশেষ আগ্রহ রয়েছে। প্রয়োজনে: rayhan@lawhelpbd.com more at lawhelpbd.com/rayhanul-islam

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: দু:খিত এই লেখাটির মেধাসত্ত্ব সংরক্ষিত !!