দেওয়ানী সমন ও অমান্যের সাজা – দে. কা. ০৭

সমন কি?

দেওয়ানী মোকদ্দমায় বাদী, বিবাদী, অন্যান্য পক্ষ ও সাক্ষীগনকে আদালতের মাধ্যমে নোটিশ পাঠান, এই নোটিশে বিবাদী, অন্যান্য পক্ষ (যদি থাকে) ও সাক্ষীগণকে যথাক্রমে আদালতে উপস্থিত হয়ে তার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগের বিষয়ে আত্মপক্ষ সমর্থন বা অভিযোগ / আবেদনের প্রক্ষিতে কিছু বলার থাকলে বা কাউন্টার ক্লেইম থাকলে আদালতের সামনে পেশ করার জন্য জন্য ডেকে পাঠান। এই নোটিশ দিয়ে জানানোকেই সমন বলে।

দেওয়ানী মোকদ্দমায় এই সমন একটি খুব-ই গুরুত্বপূর্ণ বিষয় যা সঠিক ভাবে সম্পন্ন না করলে বা এড়াতে চাইলে মোকদ্দমায় বড় ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

দেওয়ানী কার্যবিধিতে,  ধারা, ২৭ -৩২ এবং আদেশ ৫ এ সমনের বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে এর মধ্যের কিছু অতি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিচে তুলে ধরা হোল:

সমন জারির পদ্ধতী

ধারা, ২৭ -৩২ [সমন – Summons]

ধারা, ২৭; বিবাদীকে সমন দিতে হবে।

সমন

সমনকে হেলাফেলা নয়


যথাযথ ভাবে মামলা করার পর বিবাদীকে আদালতে এসে উত্তর প্রদান করার জন্য সমন দিতে হবে।

ধারা, ৩০; ঘটনা উদঘাটানের জন্য সমন:

আদালত নিজ থেকে বা কারো আবেদনের প্রেক্ষিতে; কোন ঘটনা উদঘাটন, তদন্ত, পরিদর্শন, দলিল পরীক্ষণ ইত্যাদির জন্য সমনের মাধ্যমে কাউকে সাক্ষ্য দিতে বা দলিল প্রদর্শনের জন্য ডাকতে পারেন।

ধারা, ৩১; যেভাবে  বিবাদীকে সমন দিতে হবে একই ভাবে সাক্ষীর প্রতি সমন দিতে হবে।
মামলার সাক্ষীগণকে সাক্ষ্য প্রদান ও দলিল বা কোন বস্তু আদালতে পেশ করতে সমন প্রদান করতে হবে।

সমন অমান্যের সাজা

ধারা ৩২; সমন অমান্যের সাজা

কোন ব্যক্তি ৩০ ধারার সমন না মানলে এবং অমান্য করলে তার বিরুদ্ধে আদালত নিম্নোক্ত আদেশগুলোর মাধ্যমে তাকে আদালতে আসতে বাধ্য করতে পারে।

  • গ্রেফতারের জন্য পরোয়ানা ইস্যু করতে পারে।
  • সম্পত্তি ক্রোক করতে পারে।
  • ৫০০ টাকা পর্যন্ত জরিমানা করতে পারে।
  • হাজিরের জন্য জামানত দেওয়া আদেশ প্রদান করতে পারেন এবং ব্যর্থ হলে তাকে কারাগারে পাঠাতে পারেন।

 

আদেশ ৫ – Summons

বিধি, ১ । সমন প্রেরণ

  • আদালত থেকে নিযুক্ত অফিসার সমন প্রেরণ করবেন
  • ৫ কার্য দিবসের মধ্যে
    • উপস্থিত হবার উদ্দেশ্যে এবং – 
    • দাবির জবাব দেওয়ার জন্য সমন প্রেরন করবেন।
  • ৫ দিনের মধ্যে সমন না পাঠাতে পারলে উক্ত অফিসার অসদাচরনের জন্য দোষী হবেন।
  • সমনে আদালতের অফিসারের সিল ও সাক্ষর থাকবে।
  • বিবাদী ব্যক্তিগত ভাবে বা তার আইনজীবির মাধ্যমে হাজিরা দিতে পারবেন।

বিধি, ২।  প্রত্যেক সমনের সাথে আর্জির কপি প্রদান করতে হবে।
বিধি, ৯। কুরিয়ার, ফ্যাক্স বা ই-মেইলের মাধ্যমেও সামন দেওয়া যাবে।
বিধি, ১০। বিবাদী একাধিক হলে প্রত্যেকের উপর সমন জারি করতে হবে।

সমন জারির আরো কিছু নিয়ম:

বিধি, ১৪। স্থাবর সম্পত্তির জন্য মামলায় দায়িত্বে থাকা প্রতিনিধির উপর সমন জারি করা যাবে ।
বিধি, ১৫। পরিবারের প্রাপ্ত বয়ষ্কদের উপর সমন জারি করা যাবে,  কোন ভৃত্য (কর্মচারী) পরিবার হিসাবে বিবেচিত হবে না [বিধি, ১৫]
বিধি, ১৬। সমন গ্রহনের পর গ্রহীতার কাছ থেকে প্রাপ্তি স্বীকারমূলক সাক্ষর গ্রহণ করবেন। 

 

বিবাদীকে খুঁজে না পাওয়া গেলে বা ইচ্ছাকৃত ভাবে এড়াতে চাইলে

বিধি, ১৭। বিবাদী বা তার প্রতিনিধিকে খুজে না পাওয়া গেলে বা সমন নিতে অস্বীকার  করলে

  • যেখানে সে বসবাস করে বা ব্যবসা পরিচালনা করে বা দৃশ্যমান যায়গায় সমন ঝুলিয়ে দেবে এবং যে ব্যক্তির সামনে করা হয়েছে তার নাম ঠিকানা সাক্ষি হিসেবে লিখে নেবেন।

বিধি, ১৯ বি। প্রতিনিধির মাধ্যমে সমন দেয়া ছাড়াও একই সাথে  প্রাপ্তি স্বীকার ডাকের মাধ্যমে সমনটি প্রেরণ করবেন।

বিধি, ২০। (বিকল্প সমন)

যদি এমন মনে করার কারন থাকে যে, বিবাদী ইচ্ছাকৃত ভাবে সমন এড়ানোর চেষ্টা করছেন তখন

  • সংবাদপত্রের মাধ্যমে বা
  • ঝুলিয়ে সমন জারি কারতে হবে।

বিধি, ২১। সেই আদালতের জুরিসডিক্সনের বাইরে হলে, যে আদালতে জুরি: আছে তার মাধ্যমে সমন দেবে।
বিধি,২৫। বাংলাদেশের বাইরে অবস্থান করলে / থাকলে পোষ্টের মাধ্যমে পাঠাতে হবে।
বিধি, ২৭। পাবলিক অফিসার হলে বা রেলে কাজ করলে হেড অফিসে সমন পাঠাতে হবে।

 

বিশেষ ব্যক্তিদের কাছে সমন প্রেরনের নিয়ম 

  • কারাগারে থাকলে – ভারপ্রপ্ত কর্মকর্তার কাছে [বিধি, ২৪]
  • সরকারী কর্মচারী হলে – অফিসের কর্মকর্তা বরাবর।
  • বিবাদী সেনা, নৈ বা বিমান বাহিনীতে কর্মরত থাকলে – ঐ ব্যাক্তির অধিনায়ক কর্মকর্তার (Commanding Officer) বরাবার  [বিধি, ২৮]
  • বিশেষ মর্যাদা সম্পন্ন ব্যক্তি হলে –  সমন না পাঠিয়ে চিঠি পাঠাতে পারে।

 

মনে রাখবেন সমন এড়াতে চাওয়া বা সমন ফেরত পাঠানো মোটেই ভাল বুদ্ধি নয়, সমনটি ফেরত পাঠালেও আইনি প্রক্রিয়া কিন্তু বন্ধ হবে না বরং সমনটি গ্রহণ করে যত দ্রুত সম্ভব একজন আইনজীবীর সাথে যোগাযোগ করে ব্যবস্থা নিন।

বন্ধুদের জানান

ল হেল্প বিডি আইনের আলো ছড়িয়ে দেয়ার জন্য সাধারণ ভাবে আইন নিয়ে আলোচনা করে। আইনের আশ্রয়ে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য একজন আইনজীবীর পর্যাপ্ত গবেষণা ও কৌশল প্রয়োগ করেন যার ফলে তা সাধারণ আইনের ব্যতিক্রম হতে পারে, আমাদের সাধারণ লেখা এবং সাধারণ সাহায্য কোন আইনজীবীর বিকল্প নয়। প্রয়োজনে একজন বিজ্ঞ আইনজীবীর সাথে যোগাযোগ করুন অথবা আমাদের প্রফেশনাল সাহায্য নিতে চাইলে নিচের (বাঁয়ে) গোল নীল বাটনে ক্লিক করে আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন বা ই-মেইল করুন এই ঠিকানায়: LawHelpBD@gmail.com

Rayhanul Islam

রায়হানুল ইসলাম বর্তমানে আইন পেশায় নিয়জিত আছেন, এছাড়াও তিনি লেখালেখি করেন এবং ল হেল্প বিডির সম্পাদক। তথ্য ও প্রযুক্তি, মনোবিজ্ঞান এবং দর্শনে তার বিশেষ আগ্রহ রয়েছে। প্রয়োজনে: rayhan@lawhelpbd.com more at lawhelpbd.com/rayhanul-islam

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: দু:খিত এই লেখাটির মেধাসত্ত্ব সংরক্ষিত !!