ওয়ারিশ সনদ কি? কিভাবে পাবেন ও কোথায় ব্যবহার করবেন

ওয়ারিশ সনদ ও এর ব্যবহার

আমার জানি মুসলিম আইন অনুযায়ী কোন ব্যক্তি মৃত্যুর সাথে সাথে তার ওয়ারিশ / উত্তরাধিকার গন তার সম্পদ ও সম্পত্তির মালিক হয়ে যান কিন্তু এই বিষয়টি নির্মল ভাবে করতে কিছু ব্যবস্থা গ্রহণের প্রয়োজন হয়। মৃত ব্যক্তি কতজন ওয়ারিশ রেখে গেছেন এবং তার সম্পত্তির কি পরিমাণ / কত অংশ তারা পাবেন ইত্যাদি নির্ণয়ের জন্য প্রয়োজন হয় ওয়ারিশ সনদের।

ওয়ারিশ সনদ কি?

যে সনদ দ্বারা যথাযথ কর্তৃপক্ষ কোন (মৃত) ব্যক্তির ওয়ারিশগণকে চিহ্নিত করেন তাই ওয়ারিশ সনদ।

কেন?

কোন ব্যক্তির মৃত্যুর পরে তার প্রকৃত ওয়ারিশানের সংখ্যা, ধরন (ছেলে না মেয়ে), অবস্থা ইত্যাদি জানতে এই সনদ প্রদান করা হয়ে থাকে। উল্লেখ্য যে আমাদের বর্তমান জাতীয় পরিচয় পত্র বা অন্যান্য সার্টিফিকেট ব্যবস্থা কিছু দিন আগেও ছিল না তাই এই সনদের প্রয়োজন পরে আবার অন্য দিকে বর্তমান ব্যবস্থায় অনেক ভুল ভ্রান্তি থাকে বা আপডেট থাকে না কিম্বা কিছু স্থানে বাস্তব চিত্র হয়তো সার্টিফিকেট বা সরকারি তথ্যের সাথে অমিল থাকতে পারে তাই এই বিষয় গুলো পরিষ্কার করতে ওয়ারিশ সনদ উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখে।

কোথায় দরকার হয়?

ওয়ারিশ সনদ

ওয়ারিশ সনদ

কিভাবে পাবেন?

ওয়ারিশ সনদ সাধারণত স্থানীয় পৌরসভা অথবা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান প্রদত্ত প্রত্যয়ন পত্র । যা একজন মৃত ব্যক্তির আইনি উত্তরাধিকার/ওয়ারিশদের স্বীকৃতি দেয় ।

আবার ওয়ারিশ সনদ দেওয়ানী আদালতের মাধ্যমেও পাওয়া যায়। সাধারণত অর্থ ও অস্থাবর সম্পত্তির দেনা – পাওনা ইত্যাদির সুষ্ঠ হিসাব পাওয়া জন্য ও যাতে করে ভবিষ্যতে কোন ধরনের ঝামেলা না হয় সে জন্য দেওয়ানী আদালতের মাধ্যমে ওয়ারিশ সনদ নেওয়া হয়।

এ সনদের জন্য কি কি লাগবে?

# ওয়ারিশগণের ১ কপি ছবি (সত্যায়িত)
# মৃত্যু সনদ ১ কপি (সত্যায়িত)
# মেয়র.সংশ্লিষ্ট চেয়ারম্যান এর তদন্ত প্রতিবেদন
# সংশ্লিষ্ট বাজার চৌধুরী/হেডম্যান এর তদন্ত প্রতিবেদন।

ওয়ারিশ সনদ কেন দরকার?

সনদটি উত্তরাধিকারগণকে তাদের নামে কোন সম্পত্তি হস্তান্তরিত আছে কিনা, বা উত্তরাধিকার যোগ্য কতটুকু সম্পদ আছে তা সত্যায়ন করে থাকে। উত্তরাধিকারী/ সুবিধাভোগীর আবেদনের প্রেক্ষিতে উত্তরাধিকার আইন অনুযায়ী সনদটি ইস্যু করা হয়। ওয়ারিশ সনদ কার্যকরী, কিন্তু সব সময় এর বলে মৃতের সম্পদে উত্তরাধিকার নাও পাওয়া যেতে পারে। সাথে প্রয়োজন, একটি মৃত্যু সনদ এবং অনাপত্তি সনদ। যে আদালতের এখতিয়ারে সম্পত্তি রয়েছে, সেখানে আবেদন জারি করতে হয়। ওয়ারিশ সনদের
নিয়ম-কানুন উত্তরাধিকার আইন, ১৯২৫ (The Succession Act, 1925) দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়।

আবেদন ফরমেট


ওয়ারিশান সনদ পাওয়ার আবেদন পত্র

বরাবর,

চেয়ারম্যান সাহেব

আটাবহ ইউনিয়ন পরিষদ

কালিয়াকৈর, গাজীপুর।

বিষয়ঃ   ওয়ারিশান সনদ পত্র পাওয়ার জন্য আবেদন।

জনাব,

বিনীত নিবেদন এই যে আমার  পিতাঃ মৃত: সৈয়দ গোলাম মাওলা রেজভী  , পিতাঃ মৃতঃ সৈয়দ হাসান আলী রেজভী সাংঃ রসুলপুর, উপজেলাঃ কালিয়াকৈর, জেলাঃ গাজীপুর।

সে মৃত্যু কালে নিম্ন লিখিত  ওয়ারিশাগনকে রাখিয়া যায়।

ক্রমিক নংওয়ারিশানদের নামসম্পর্কবয়সমন্তব্য
 ১সৈয়দা ফিরোজা ইয়াসমিন  রেজভীমেয়ে৫৭
   সৈয়দ শামসুল আরেফিন রেজভীছেলে৫৫
সৈয়দা আফরোজা রহমানমেয়ে৫২
সৈয়দ হাসিব আল হাসান রেজভীছেলে৪৭

অতএব,  মহোদয়ের  সমীপে বিনীত প্রার্থনা এই, উল্লেখিত  বিষয়ে আমাকে একটি ওয়ারিশ  সনদ প্রদান করিতে আপনার সু- আজ্ঞা হয়।

বিনীত নিবেদক

নামঃ

তারিখঃ                                                        পিতাঃ

গ্রামঃ রসুলপুর

স্থানীয়ভাবে তদন্ত করে উপরোক্ত বনর্না সত্য  পাওয়া গেল।

সাটির্ফিকেট প্রদান করার জন্য সুপারিশ করা হল।

………… ………… …………

০১ নং ওয়ার্ডের সদস্য


Rayhanul Islam

রায়হানুল ইসলাম বর্তমানে আইন পেশায় নিয়জিত আছেন, এছাড়াও তিনি লেখালেখি করেন এবং ল হেল্প বিডির সম্পাদক। তথ্য ও প্রযুক্তি, মনোবিজ্ঞান এবং দর্শনে তার বিশেষ আগ্রহ রয়েছে। প্রয়োজনে: rayhan@lawhelpbd.com more at lawhelpbd.com/rayhanul-islam

You may also like...

4 Responses

  1. rajib dewan says:

    কোন ব্যাক্তি তাহার বাবা জিবিত থাকালীন সময় তাহাকে অশ্বিকার করে তাহার সকল শিক্ষাগত ও বিয়ের কাবিন নামা পর্যন্ত তাহার পিতার নাম বাদ ‍দিয়ে অন্য ব্যক্তি পিতা নাম দিয়ে থাকলে সে তাহার প্রকৃত পিতার ওয়ারিশ হবে কি তাহার বাবার মৃত্যুর পর ? জানালে উপকৃত হবো।

Leave a Reply

error: দু:খিত এই লেখাটির মেধাসত্ত্ব সংরক্ষিত !!