হিন্দু বিবাহ নিবন্ধন, ভরন পোষন ও তালাক প্রশঙ্গে

কিভাবে নিবন্ধিকরণ করবেন:

(১) ধর্ম, রীতি-নীতি ও আচার-অনুষ্ঠান অনুযায়ী হিন্দু বিবাহ সম্পন্ন হওয়ার পর উক্ত বিবাহের দালিলিক প্রমাণ সুরক্ষার উদ্দেশ্যে, বিবাহের যে কোন পক্ষের, নির্ধারিত পদ্ধতিতে, আবেদনের প্রেক্ষিতে হিন্দু বিবাহ নিবন্ধক, নির্ধারিত পদ্ধতিতে বিবাহ নিবন্ধন করিবেন।

(২) এই আইন কার্যকর হইবার পূর্বে হিন্দু ধর্ম, রীতি-নীতি ও আচার-অনুষ্ঠান অনুযায়ী সম্পন্নকৃত কোন বিবাহের যে কোন পক্ষের, নির্ধারিত পদ্ধতিতে, আবেদনের প্রেক্ষিতে এই আইনের বিধান অনুসরণক্রমে নিবন্ধন করা যাইবে।

হিন্দু আইনে তালাক কি সম্ভব? তাহলে উপায় কি?

ණআমাদের দেশে হিন্দু বিবাহ অবিচ্ছেদ্য হিসাবে গন্য করা হয়। বাংলাদেশের হিন্দু আইনে বিবাহ-বিচ্ছেদ সম্ভব নয়। কোন কারনে দাম্পত্য জীবন অতিবাহিত করা সম্ভব না হলেও বিচ্ছেদের কোন সহজতর ব্যবস্থা প্রচলিত হিন্দু আইনে নাই। বিবাদমান দম্পত্তি বড় জোর ১৯৪৬ সালের ‘বিবাহিতা নারীর পৃথক বাসস্থান ও ভরণপোষণ আইনের’ অধীনে আদালতে ‘দাম্পত্য অধিকার পুনরুদ্ধারের’ জন্য মামলা দায়ের করতে পারেন৷ তবে স্বামী কর্তৃক নিগৃহীতা নারী, এ আইনের অধীনে স্বামীর কাছ হতে পৃথক হয়েও ভরণপোষণের অধিকারী হতে পারেন,কিন্তু কোন মতেই বিবাহ-বিচ্ছেদ পাবেন না। ভারতে ১৯৫৫ সালে ‘হিন্দু বিবাহ আইন’পাশ হওয়ার পর থেকে স্বামী-স্ত্রী যে কোন পক্ষ সুনির্দিষ্ট ও যুক্তিসঙ্গত কারণ আদালতে উপস্থাপনার মাধ্যমে বিবাহ-বিচ্ছেদ ঘটাতে পারে। কিন্তু বাংলাদেশে এ আইন প্রযোজ্য নয়। তবে এ ব্যাপারে সহজ বিচ্ছেদ প্রথা অবশ্যই থাকা উচিত।

ණණউদাহরণ: বিথীকার স্বামী অর্নব বিথীকাকে প্রায়ই মারধোর করে। ক্রমাগত নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে বিথীকা আদালতে গিয়ে বিবাহ-বিচ্ছেদ চায়৷কিন্তু,যেহেতু বাংলাদেশের হিন্দু আইনে বিবাহ-বিচ্ছেদ সম্ভব নয়,সেহেতু বিথীকা বিবাহ-বিচ্ছেদ পাবে না। তবে সে ১৯৪৬ সালের ‘বিবাহিতা নারীর পৃথক বাসস্থান ও ভরণপোষণ আইনের’ অধীনে আদালতে স্বামীর কাছ হতে পৃথকভাবে বসবাসের ও ভরণপোষণের জন্য মামলা করতে পারে এবং সুনির্দিষ্ট অভিযোগ প্রমাণ সাপেক্ষে আদালত তার প্রার্থনা মঞ্জুর করতে পারে।

সূত্র: ইন্টারনেট

Facebook Comments

You may also like...

Leave a Reply

error: Content is protected !!
%d bloggers like this: